[email protected] মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে

এবার চলছে না ম্যাঙ্গো ও ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ১০:৩০

সংগৃহীত ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গত পাঁচ বছর ধরে আম ও কোরবানির পশু পরিবহনে চালু থাকা ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল’ ও ‘ক্যাটল স্পেশাল’ ট্রেন এবার আর চালু হচ্ছে না।

ধারাবাহিক লোকসানের কারণ দেখিয়ে ট্রেন দুটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো আম পরিবহনের জন্য ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল’ এবং কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য ‘ক্যাটল স্পেশাল’ ট্রেন চালু করা হয়। ট্রেন দুটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার কমলাপুর পর্যন্ত চলাচল করত। কম খরচে দ্রুত আম ও পশু পরিবহনের সুবিধা থাকলেও প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় প্রকল্পটি লোকসানে পড়ে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের বাণিজ্যিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ম্যাঙ্গো ও ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আয় হলেও ব্যয় হয়েছে দুই কোটি টাকার বেশি। এতে রেলের লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।

তথ্যমতে, ২০২০ সালে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন থেকে আয় হয়েছিল ১৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩৬ টাকা, বিপরীতে ব্যয় হয় ৫৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ২০২১ সালে আয় ২৬ লাখ ৩০ হাজার ৯২৮ টাকা হলেও ব্যয় ছিল ৫৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০২২ সালে আয় নেমে আসে মাত্র ২ লাখ ১২ হাজার টাকায়, যেখানে ব্যয় ছিল ১২ লাখ টাকার বেশি। ২০২৩ সালেও একইভাবে আয়-ব্যয়ের বড় ব্যবধান দেখা যায়।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, ট্রেনে আম ও পশু পরিবহনের খরচ তুলনামূলক কম হলেও কৃষক, বাগান মালিক ও খামারিদের আগ্রহ কম ছিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ট্রেনে আম পরিবহনে প্রতি কেজিতে খরচ পড়ত মাত্র ১ টাকা ৪৭ পয়সা।

তবে আমচাষি ও খামারিদের অভিযোগ, ট্রেনের সময়সূচি ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে তারা সেবা থেকে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাননি। জেলার বড় আমবাজার কানসাটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রেলস্টেশনের দূরত্ব বেশি হওয়ায় বাগান থেকে স্টেশন এবং পরে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাড়তি খরচ ও ঝামেলা পোহাতে হতো। ফলে অধিকাংশ ব্যবসায়ী সড়কপথেই ভরসা রেখেছেন।

জেলা কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, কৃষকদের মতামত নিয়ে সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে কৃষকবান্ধব উদ্যোগ হলেও বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় না থাকায় সেটি সফল হয়নি।

এদিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আম বাজারজাতকরণবিষয়ক এক সভায় রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে আম ও সবজি পরিবহনের জন্য একটি মালবাহী ওয়াগন সংযুক্ত করা হবে।

অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৪৮টি পশু উদ্বৃত্ত থাকলেও এবার পশু পরিবহনের জন্য কোনো বিশেষ ট্রেন সুবিধা থাকছে না।

খামারি আব্দুল বাতেন বলেন, কৃষক ও খামারিদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পনা নিলে ট্রেনগুলো লোকসানে পড়ত না। এখন দায় আমাদের ওপর চাপিয়ে সেবাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বলেন, পর্যাপ্ত সাড়া না পাওয়ায় ট্রেন পরিচালনার খরচ ওঠেনি। তাই আপাতত ম্যাঙ্গো ও ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন না চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আলোকিত গৌড়/জে.আর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর