[email protected] সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

ইফতারের মেন্যুতে গরুর মাংস বাদ, ঢাবিতে ইফতার বয়কটের ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২৬, ১৪:৫৪

সংগৃহিত ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বার্ষিক ইফতার মাহফিলের মেন্যুতে গরুর মাংসের পরিবর্তে মুরগির মাংস রাখায় ইফতার বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) রাতে ইফতারের মেন্যু নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে জানানো হয়, এ বছরের বার্ষিক ইফতারের মেন্যুতে গরুর মাংস রাখা হচ্ছে না। সিদ্ধান্ত জানাজানি হওয়ার পর বিভিন্ন হল সংসদ ও শিক্ষার্থীরা ইফতার বর্জনের ঘোষণা দেয়।

জানা গেছে, প্রতি বছর রমজানে একদিন শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার ও নৈশভোজের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চলতি বছর ৪ মার্চ বার্ষিক ইফতারের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজেট স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে এবারের মেন্যুতে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বয়কটের ঘোষণা দিয়ে শহীদ ওসমান হাদি হল সংসদের (প্রস্তাবিত) জিএস আহমদ আল সাবাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে এবং তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে ইফতারের মেন্যু থেকে ‘গরু’ আইটেম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তারা ইফতার বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের জিএস মো. ইমামুল হাসান জানান, তারা প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি কমিটির সিদ্ধান্ত এবং আনুষ্ঠানিক সভা ছাড়া তা পরিবর্তন করা যাবে না। পরবর্তীতে অনলাইনে জরুরি সভা হলেও গরুর মাংস না রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

কবি জসিমউদ্দীন হল সংসদের ভিপি মু. ওসমান গনী বলেন, প্রশাসন সবকিছুতেই রাজনীতি দেখছে। দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হুসাইন আল মারুফ অভিযোগ করেন, ডিনস কমিটি ও প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে শিক্ষার্থীদের বৈধ দাবিগুলো উপেক্ষিত হচ্ছে। তার দাবি, রমজানে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিতের দাবির পর এবার ইফতারের মেন্যু নিয়েও একই ঘটনা ঘটেছে।

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের বলেন, বিষয়টি শুধু একটি খাবারের আইটেমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার ভাষ্য, গরুর মাংস উপমহাদেশে একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক উপাদান হিসেবেও বিবেচিত হয়।

মন্তব্য জানতে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ও কবি জসিমউদ্দীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শাহিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, অধিকাংশ হল পূর্বের মেন্যু অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং অনেকেই অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করে পণ্য ক্রয় করেছেন। সময় স্বল্পতার কারণে এখন মেন্যু পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পূর্বনির্ধারিত মেন্যুই বহাল রাখা হয়েছে। তবে আগামী পহেলা বৈশাখে গরু ভোজের আয়োজন করা হবে।

এদিকে ইফতারে গরুর মাংস রাখার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, বিশেষ ভোজে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের কাছে গরুর মাংস জনপ্রিয় ও প্রত্যাশিত। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করলে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। বিকল্প হিসেবে যারা গরুর মাংস খান না, তাদের জন্য মুরগির ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর