দীর্ঘ দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) কেন্দ্রীয় কমিটিতে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রাবি শাখার নেতারা পর্যাপ্ত মূল্যায়ন পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন কর্মীরা।
অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। পদপ্রত্যাশীরা ইতিমধ্যেই তদবির শুরু করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এবার রাবি শাখার অবদান, ত্যাগ ও নেতৃত্বকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কতটা গুরুত্ব দেবে।
রাবি থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসার বড় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও রাকসুর সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নাম। তার সময়ে রাবি ছাত্ররাজনীতি যে উচ্চতায় ছিল, তা আজও তৃণমূল কর্মীদের অনুপ্রাণিত করছে। এছাড়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাবি ছাত্রদলের সাবেক ৮–৯ জন নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্য ছাত্রসংগঠনেও রাবি নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের উদাহরণ রয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে সীমিত।
রাবি শাখার নেতারা জানিয়েছেন, গত এক দশকের বেশি সময় রাজনৈতিক হামলা, মামলা, গ্রেফতার ও বহিষ্কারের মধ্যেও তারা সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছেন। রাবি শাখার সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “স্বৈরাচার সরকারের পতন ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আন্দোলনের দায়িত্ব আমাদের ওপর ছিল। আমাদের ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ত্যাগ অবশ্যই বিএনপি মূল্যায়ন করবে বলে আশা করি।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা যদি প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংগঠনের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। রাবি শাখার অবদান ও ত্যাগ বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব বাড়লে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।”
নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা কখন হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা আশা করছেন, এবার তাদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: