[email protected] বুধবার, ২০ মে ২০২৬
৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রাবিতে ৩৮ বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে 'বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সংরক্ষণ' বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

আবু বকর সৈকত

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ২০:৪৭

ছবি- আলোকিত গৌড়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৩৮টি বিভাগের ৭৬জন শিক্ষককে নিয়ে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবনের আইকিউএসি'র কনফারেন্স রুমে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

প্রশিক্ষণে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সৃষ্টি, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, প্যাটেন্ট, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক, গবেষণালদ্ধ উদ্ভাবনের সুরক্ষা এবং অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে "IP Creation and Protection for Academia" ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উক্ত সেমিনারে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো চেয়ার ও বুয়েটের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদার।

এমন প্রশিক্ষণের ভূয়সী প্রশংসা করে এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, "গবেষণালব্ধ নতুন উদ্ভাবন একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, যা সংরক্ষণ করা জরুরি। বিশেষ করে কৃষি ও উদ্ভিদবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট নতুন জাত উদ্ভাবন দেশের জন্য মূল্যবান সম্পদ। এ ধরনের প্রশিক্ষণ গবেষকদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সংরক্ষণে সচেতন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন"।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, "বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিধি ও মান অনেক বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন উদ্ভাবন হলেও সেগুলোর যথাযথ বুদ্ধিবৃত্তিক সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে অন্যরা এর মালিকানা দাবি করতে পারে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্ভাবন সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিকীকরণের বিষয়ে শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।"

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি ও টিস্যু কালচারভিত্তিক নানা উদ্ভাবন রয়েছে। তবে এসব উদ্ভাবনের প্যাটেন্ট সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এখনো সীমিত। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা সেন্টার গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবু রেজা বলেন, “আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করি, সবাই জানি যে আমাদের গবেষণায় আইপি (ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি) ক্লেইম করার বিষয়ে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আমরা অনেক সময় এমনভাবে গবেষণা পরিচালনা করি না, যেগুলোকে বাস্তবে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। বর্তমানে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। একই সঙ্গে আমাদের এমন গবেষণার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে, যেগুলোর মাধ্যমে আইপি ক্লেইম করা এবং বাণিজ্যিকীকরণ সম্ভব হয়।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর