রাজশাহী কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে এক শিক্ষার্থী-সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।গতকাল শনিবার (২৩ মে) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কলেজের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ভবনের ১০৪ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মোঃ ইব্রাহিম।
ইব্রাহিম রাজশাহী কলেজের আরবি বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের (২০২০-২১ সেশন) শিক্ষার্থী এবং রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক অর্থ সম্পাদক। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তিনি নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ১১টার দিকে কয়েকজন তাঁর রুমের দরজায় এসে ডাকাডাকি করে। দরজা খোলার পরপরই তাঁরা অতর্কিত হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাঁকে চর-থাপ্পড় মারার পাশাপাশি লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে তাঁর ডান পাশের পিঠে ও বাম পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।
হামলার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইব্রাহিম। তিনি জানান, সম্প্রতি আলোচিত “রামিসা হত্যা” ইস্যুতে তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। ওই পোস্টের মন্তব্য ঘিরে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়। এর জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইব্রাহিমের অভিযোগ, হামলার সময় ছাত্রদলের রাজশাহী কলেজের সদস্য সচিব আমিনুর, নাটোর জেলা জিয়া সাইবার কোর্সের সদস্য সচিব সৌরভ,নাটোর জেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের আহবায়ক রুহুল আমিন ও ছাত্রদল কর্মী জাহিদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আরও দুইজন সেখানে ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার সময় আশপাশে থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“পুরনো ছাত্রলীগ যেভাবে হল দখল ও বিরোধী মত দমনে হামলা চালাতো, ঠিক একই কায়দায় এই ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি করতেই এ হামলা করা হয়েছে।”
তাদের দাবি, সম্প্রতি কলেজ ছাত্রাবাসে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও হল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নমত প্রকাশ করলেই চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ইব্রাহিম আলীকে বিষয়টি অবহিত করেন। তবে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে অধ্যক্ষ তাঁকে আপাতত বাসায় চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও মতপ্রকাশের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: