২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটের খেলাধুলা ব্যয় ও ক্রীড়া উপকরণ ক্রয় সংক্রান্ত অর্থের ফাইল অগ্রগতির সম্পর্কে জানতে চাওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নাট্যকলা বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রারকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব দপ্তরের দুই কর্মকতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভুক্তভোগী মো: মনোয়ার হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগপত্রে নাট্যকলা বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার মো. মতিউর রহমান উল্লেখ করেন, গত ২৭ জুলাই সোমবার বিভাগের সভাপতির অনুমতিক্রমে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটের খেলাধুলা ব্যয় ও ক্রীড়া উপকরণ ক্রয় সংক্রান্ত অর্থের ফাইল তদারকির করার জন্য হিসাব শাখার সহকারী পরিচালক জনাব মো. মনজু সরকারের পরামর্শে উপ-রেজিস্ট্রার জনাব মো. রোকনুজ্জামানের কক্ষে সালাম প্রদান পূর্বক প্রবেশ করি এবং উক্ত ফাইলের অগ্রগতির সম্পর্কে জানতে চাই। তখন তিনি উত্তরে বলেন সংশোধিত বাজেটের অর্থ প্রদান করা যাবে না কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ তখন অর্থ চাইবে।
তার পরেও বিষয়টি অতিরিক্ত হিসাব পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মো. গোলাম কিবরিয়া সাহেবের নিকট জিজ্ঞাসা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলবো।
অভিযোগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তখন আমি স্বাভাবিকভাবে বললাম নিয়ম থাকলে ব্যবস্থা নিবেন আর নিয়ম না থাকলে তা উল্লেখ পূর্বক ফাইল ফেরত দিবেন। উক্ত সময়ে ঐ কক্ষে ৬/৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অবস্থান করছিল। কিন্তু হঠাৎ কৃষি প্রকল্প দপ্তরে উপ-রেজিস্ট্রার মো: মনোয়ার হোসেন ও হিসাব শাখার সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন দুইজন বলেন, আপনি কেন উচ্চস্বরে কথা বলছেন, তখন আমি বললাম আমি উচ্চস্বরে কোন কথা বলিনি। সে মুহূর্তে জনাব মো. মনোয়ার হোসেন আমাকে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের করে দেয়। এই সময়ে বিভাগের সেকশন অফিসার জনাব মো. ওমর ফারুক আমার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। উক্ত পরিস্থিতিতে তিনি আমাকে ঘটনাস্থল থেকে বিভাগে নিয়ে আসেন। আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগের সভাপতি মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করি।
জানতে চাইলে ভুক্তভোগী নাট্যকলা বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার মতিউর রহমান বলেন, সংশোধিত বাজেট সংক্রান্ত ফাইলের অগ্রগতি জানার জন্য আমি প্রশাসন ভবনের নিচতলায় হিসাব দপ্তরে যাই। তখন তিনি বলেন এভাবে কখনো বাজেট দেয়া হয়নি, তখন আমি বললাম আমরা এর আগের অর্থ-বছরেও এভাবেই বাজেট পেয়েছি। তখন ঘটনাস্থলে থাকা কৃষি প্রকল্প দপ্তরে উপ-রেজিস্ট্রার মো: মনোয়ার হোসেন ও হিসাব শাখার সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন দুইজন আমার সাথে উচ্চবাক্যে কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে কৃষি প্রকল্প দপ্তরে উপ-রেজিস্ট্রার মো: মনোয়ার হোসেন ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের করে দেন।
তিনি বলেন, এরপরে বিষয়টি আমি আমার বিভাগের সভাপতিকে জানানোর পরে রেজিস্ট্রার দপ্তরে যাই এবল লিখিত অভিযোগ দেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কৃষি প্রকল্প দপ্তরের উপ-রেজিস্ট্রার মনোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার চরিত্র হননের জন্য মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: