রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীবের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার রাতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর এই হামলা করা হয়।
তবে এর আগে শিক্ষার্থীকে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগের মতো ঘটনায় আলোচনায় আসেন হামলাকারী নেতা। হন সংগঠন থেকে বহিস্কার। যদিও আবার নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে ফিরে আসেন। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলার ঘটনায়ও তিনি নেতৃত্ব দেন বলে একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে।
সর্বশেষ গতকাল রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, আহসান হাবীবের নেতৃত্বে ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালান। হামলায় অন্তত চার সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা ছিল।
তবে এ ঘটনা আহসান হাবীবকে ঘিরে ওঠা প্রথম গুরুতর অভিযোগ নয়। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁসকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ফাঁস হওয়া কথোপকথন নিয়ে সংগঠনটি তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে। অবশ্য আহসান হাবীব তখন দাবি করেন, ফোনালাপটি সম্পাদনা করা হয়েছিল।
অব্যাহতির কয়েক মাস পরই তার বিরুদ্ধে ওঠে আরও গুরুতর অভিযোগ। ২০২৫ সালের জুনে রাবির ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। তার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় তাকে মারধর করে টাকা নেওয়া হয় এবং ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। অভিযোগে আহসান হাবীবের নামও ছিল।
ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ ছিল, কয়েকজন তাকে আটকে রেখে মারধর করেন এবং তার কাছ থেকে টাকা নেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। যদিও আহসান হাবীব এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি ছিল, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল এবং তার ফোন দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
অভিযোগের পরও সংগঠনে তার রাজনৈতিক অবস্থান স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। ২০২৬ সালে রাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার সময় তার আগের অব্যাহতি প্রত্যাহার করা হয়। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর আবারও সামনে এলেন সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায়।
এর আগে গত রোববার রাতে রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীবের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেখানে অবস্থান নেওয়া একদল নেতাকর্মীর হাতে দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। ঘটনাটি সাংবাদিকেরা ভিডিও করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর এবং তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলাকারীদের নেতৃত্বে ছিলেন আহসান হাবীব। তার সঙ্গে ছাত্রদলের আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী ছিলেন। এ ঘটনায় দ্য ডেইলি স্টার, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, সমকাল ও আগামীর সময়ের সাংবাদিকরা আহত হন।
এ ঘটনার পর এক ফেসবুক পোস্টে অভিযুক্ত ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এম আহসান হাবীব লেখেন, ‘কোন নিরপেক্ষ সাংবাদিকের ওপর হামলা করা হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তিকারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, জিয়া হলের জিএস আরিফুলকে ধরতে জিয়া হলে গেলে সংক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উপর যেসব সাংবাদিক নামধারী গুপ্ত শিবির ছানা হামলা করতে এসেছে তাদেরকে প্রতিহত করা হয়েছে মাত্র।’
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: