এই সরকার পুরোপুরি এক অর্থে নিরপেক্ষ না। কী অর্থে নিরপেক্ষ না- জুলাই যে গণঅভ্যুত্থান হলো, সেই অভ্যুত্থানের পক্ষের লোক বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কর্তৃক আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. বিধান রঞ্জন রায় বলেন, যে প্রস্তাবগুলো গণভোটে দেওয়া হয়েছে, সেই প্রস্তাবগুলোই যদি জনগণ ‘হ্যাঁ’ বলে সবগুলোতে, তাহলে একটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যান্ডেট আসলো, যে রাজনৈতিক দলগুলো, যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা এগুলো বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকিবে। এই বিবেচনা থেকেই গণভোটের আয়োজন। এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট বলার জন্য আমরা বলছি।
এই সময় উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকার জুলাই যে গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটলো, সেটার পক্ষেই বলবে। এটিই তার কাজ। সেই অর্থে এটা পক্ষপাতহীন না- পক্ষপাত। সেজন্য আমরা ‘হ্যাঁ’ বলছি। কিন্তু ‘হ্যাঁ’টি মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে। যেন আমাদের সমাজে এক ধরনের পরিবর্তন আমরা নিয়ে আসতে পারি- এই আইনগুলো পরিবর্তনের মাধ্যমে। যেন এই দেশে গণতন্ত্রটা বহাল থাকে, যেন বৈষম্যগুলো তীব্র না হয়ে ওঠে, বৈষম্যগুলোর অবসান ঘটে, বৈষম্যগুলো কমে আসে। ফলে এই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের এই আয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমাদের যে সমস্যায় বারবার পড়ে যাই, সেই সমস্যা থেকে আমরা উত্তরণ হতে পারবো। আমাদের দেশটাকে একটা গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যহীন দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো। এটিই হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান।
তিনি আরও বলেন, চব্বিশ সালে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, বর্তমান সরকার সেই অভ্যুত্থানের ফসল। ফলে এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে গণঅভ্যুত্থানে যে জনআকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ঘটেছে, তা বাস্তবায়ন করা। সরকার তিনটি বিষয়কে বেছে নিয়েছে- বিচার, সংস্কার, নির্বাচন।
সভায় জেলা প্রশাসক শাহাদাত হোসেন মাসুদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
আলোকিত গৌড়/এম.আর
মন্তব্য করুন: