[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার: ৬ সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৯

সংগৃহিত ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার থাকার অভিযোগে ৬ সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে অফিস সময়ে হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে আরও দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদের ঘোষণার এক সপ্তাহের মাথায় গত ৫ জুলাই এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে অভিযুক্তদের পত্র পাওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হওয়া ৮ চিকিৎসকের মধ্যে ৬ জনের স্থানীয় বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা হলেন— ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফিজা নাসরিন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. মো. আব্দুল মজিদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু-শিশু) ডা. মো. রেজাউল করিম, সদর উপজেলার মহারাজপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসা মুনিরা খাতুন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আজহারুল ইসলাম।

এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে রুমালি খাতুন এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বেসরকারি সিটি হাসপাতালে কর্মরত থাকার অভিযোগে ডা. সামছুল আলম রাশেদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ডা. রাশেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত বা উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

এর আগে জেলা হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসককে বদলি করার ঘটনায় জেলায় রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। ওই সময় স্থানীয় ড্যাব নেতাদের সুপারিশে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতির মধ্যে গত ২৯ জুন জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ। পরিদর্শন শেষে তিনি আরও কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

হারুনুর রশীদ বলেন, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে নিজ নামে বেসরকারি হাসপাতালের শেয়ার কেনা, পরিচালনায় যুক্ত থাকা এবং একই সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগে পাঁচজন তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, কয়েকজন চিকিৎসক পদ্মা ও ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার নিয়ে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন, অথচ সরকারি চাকরির সব সুবিধাও ভোগ করছেন। পরে বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার পর এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর