[email protected] বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
৩ ভাদ্র ১৪৩৩

ফ্যামিলি কার্ড কাণ্ডে নারী আটক: জামায়াতের ‘রোকন’ স্বীকারে বিএনপি নেতার চাপ, জামায়াতের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ আগষ্ট ২০২৬, ২০:৫২

ছবি- আলোকিত গৌড়

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা সংগ্রহের অভিযোগে এক নারীকে স্থানীয়রা আটক করার পর তাকে জামায়াতে ইসলামীর ‘রোকন’ পরিচয় স্বীকার করতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়কের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলাহাট উপজেলা শাখা।

জানা যায়, রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার দলদলী ইউনিয়নের পঞ্চনন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক নারী উপজেলার বীরেশ্বরপুর গ্রামের মাদ্রাসাপাড়ার মহাতাব উদ্দিনের স্ত্রী। ঘটনাটি নিয়ে ভোলাহাট উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. মহসিন আরাফাত সানির ফেসবুক আইডি থেকে একটি লাইভ ভিডিও প্রচার করা হয়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

প্রচারিত ভিডিওতে দলদলী ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য ও বিএনপি নেতা মো. আব্দুর রহমান জুয়েল ওই নারীকে জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি ওই নারীকে জামায়াতের ‘রোকন’ পরিচয় স্বীকার করার জন্য চাপ দিচ্ছেন এমন বক্তব্যও ভিডিওতে শোনা যায়।

ভিডিওতে ওই নারী নিজেকে বিএনপির সমর্থক বলে দাবি করেন। এ সময় সাবেক ছাত্রদল নেতা মহসিন আরাফাত সানিকেও ওই নারীকে দলীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করতে দেখা যায়।

একপর্যায়ে বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান জুয়েল বলেন, 'চাঁদা উঠায় বিএনপির লোকজন? উঠালে জামায়াতেরা উঠায়। আমরা চাঁদা উঠায়? তুমি বলো যে আমি জামায়াতের টাকা উঠাতে এসেছি।' মহিলা জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করলে বিএনপি নেতা তাকে চাপ দিয়ে বলতে থাকেন, 'এটা বলতে হবে, বলতে হবে আমি জামায়াতের রোকন। এটা তোমাকে বলতে হবে, তার পরে ব্যবস্থা করছি।'

ভিডিওতে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করতেও শোনা যায় বিএনপি নেতাকে। পরবর্তীতে তিনি মহিলাকে ঘটনাস্থল থেকে নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চলে আসেন এবং সেখানে থেকে পুলিশ যেয়ে থানায় নিয়ে এসে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলাহাট উপজেলা শাখা। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ভোলাহাট উপজেলা জামায়াতে ইসলামী সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনাটিকে 'ন্যাক্কারজনক, অনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র' হিসেবে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শামসুজ্জামান আলকেস বলেন, উপজেলার পঞ্চনন্দুপুর গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে অর্থ টাকা নেওয়ার সময় এক নারীকে স্থানীয় জনগণ আটক করে। আটককৃত নারী নিজেকে বিএনপি কর্মী বলে পরিচয় দেন।

পরবর্তীতে ভোলাহাট উপজেলা বিএনপি নেতা ও দলদলী ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য আবদুর রহমান জুয়েল ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবাহয় মহসিন আরাফাত সানিসহ কয়েকজন ওই নারীর রাজনৈতিক পরিচয় জানার পর তাকে জোরপূর্বক জামায়াতে ইসলামীর 'রুকন' হিসেবে পরিচয় দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপরাধ বা অনিয়মের দায় অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জামায়াত নেতারা এ ধরনের আচরণের জন্য বিএনপির কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে ভোলাহাট উপজেলা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সংগঠন যেন অপপ্রচারের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এবিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. মহসিন আরাফাত সানি বলেন, এ মহিলা কয়েকদিন থেকে এলাকায় যাওয়া আসা করছিল। ফ্যামেলি কার্ড দেওয়ার নাম করে তিন জনের কাছে ১১ হাজার টাকা নিয়েছিল। স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করলে আমি সেখানে যায়। বিএনপি নেতা মো. আব্দুর রহমান জুয়েলকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ করেননি।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর