[email protected] সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
২৯ পৌষ ১৪৩২

রাজশাহীতে গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রি'র অভিযোগ, মৃত গরুর বাচ্চা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৬

ছবিঃ আলোকিত গৌড়

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর বাজারে গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একাধিক কসাইয়ের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা দেড়টার দিকে পৌর বাজারের মাছহাট সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসাই মুকুল, কাদেরের ছেলে ও বাচ্চু নিয়মিতভাবে অসুস্থ ও গর্ভবতী গাভী জবাই করে মাংস বিক্রি করে আসছিলেন। ঘটনার দিনও তারা একটি গরু জবাই করার পর গর্ভের বাচ্চাটি মাছ হাটের পাশের পুকুরের ধারে ফেলে রাখেন। পরে স্থানীয়রা বাছুরের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে হৈচৈ শুরু করলে অভিযুক্ত কসাইরা পালিয়ে যান। এসময় গরুর মাংস বাজারের বিভিন্ন হোটেল ও দোকানে বিক্রি হয়ে যায়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মোহনপুর থানার জরুরি অফিসার এসআই জাহাঙ্গীর সরদারসহ পুলিশের একটি দল। গরুর বাচ্চার মৃতদেহ উদ্ধার করে উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরে পাঠানো হয়।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. খন্দকার সাগর আহম্মেদ বলেন, রোগাক্রান্ত বা গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এটা একটি অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোহনপুর থানার ইনচার্জ এসএম মঈনুদ্দীন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর আসাদুল ইসলাম ও কেশরহাট পৌর স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মশিউর রহমান সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করেন বলে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনৈতিক মাংস ব্যবসা চলছে। ফলে কেশরহাট বাজারে ভোজনরসিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক জোবায়দা সুলতানা বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে আমাদের নজরে এসেছে। যে বা যারা এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, কেশরহাট বাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো ও অবৈধ কসাইদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

জানাগেছে সন্ধ্যার আগে পৌর প্রশাসক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জোবায়দা সুলতানা ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে কেশরহাটের কামরুলের খাবার হোটেলে নগদ ৩ হাজার ও টিপু'র খাবার হোটেলকে নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

আলোকিত গৌড়/এম.আর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর