[email protected] শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধনে গিয়ে তোপের মুখে আমির হামজা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ মে ২০২৬, ১৬:৩৬

ফাইল ছবি

মুফতি আমির হামজা কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান অতিথি হিসেবে আন্তঃবিভাগ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে কলেজে যান আমির হামজা। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে নির্বিচারে গাছ কাটার প্রতিবাদে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করছিলেন। তিনি মঞ্চে উঠলে শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ-এর অধ্যক্ষ প্রফেসর মোল্লা মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান চলাকালীন এবং প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময়ও শিক্ষার্থীরা স্লোগান অব্যাহত রাখেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে আমির হামজা বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি কলেজের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “আমি হুজুর না। আমি এগুলোর তালিকা নিয়ে যাব আজকে। যেয়ে আপনাদের যা করা লাগে আমি তাই করব।”

অনুষ্ঠান শেষে কলেজের অধ্যক্ষ তাকে কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনেও অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিছু সময় পর পুলিশের সহযোগিতায় আমির হামজা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

এদিকে ঘটনার পর আমির হামজার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দাবি করা হয়, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। তবে পরে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আমির হামজা বলেন, “এমন কিছু না। সামান্য হট্টগোল হয়েছিল। আমি নিরাপদে বের হয়ে গেছি।”

তিনি আরও বলেন, গাছ কাটার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন শেষে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়েছিল এবং তিনি খেলা চলাকালে এমন পরিস্থিতি না তৈরির আহ্বান জানান।

কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং আমির হামজাকে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মে রাতে কলেজ মাঠে প্যান্ডেল নির্মাণের জন্য প্রায় ২০টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের শনাক্ত ও শাস্তির দাবিতে কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর