[email protected] রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নদ খননের মাটি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষের জেরে জামায়াতের তিন নেতার পদ স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:২৯

ফাইল ছবি

যশোরের মণিরামপুরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটনসহ তিন নেতার দলীয় পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

পদ স্থগিত হওয়া অন্য দুই নেতা হলেন জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলাম এবং পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেন। গত শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সভা শেষে জেলা জামায়াতের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল মণিরামপুরে হরিহর নদ খনন থেকে উত্তোলিত মাটি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলামসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে উভয় দল পৃথকভাবে মামলা করলেও তা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়।

ঘটনার পর জেলা জামায়াত তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আরশাদুল আলম। তদন্তে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন নেতার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে দলীয় সূত্র দাবি করেছে।

তদন্তে আহসান হাবিব লিটনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো, গরুর হাট ইজারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়াসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠে আসে। এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জেলা জামায়াত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আহসান হাবিব লিটনের পদ দুই মাসের জন্য, মহিউল ইসলামের পদ তিন মাসের জন্য এবং ফারুক হোসেনের পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক। তিনি বলেন, “তিন নেতার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। চাঁদাবাজি, মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি কিংবা টেন্ডারবাজির অভিযোগ সত্য নয়।”

একইভাবে আহসান হাবিব লিটনও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কখনো এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলাম না। আমার সংগঠনও এমন কাজ সমর্থন করে না।”

এদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর মণিরামপুরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা নিয়েও দলটির তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ ও গ্রুপিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।

জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও তদন্ত কমিটির প্রধান আরশাদুল আলম তিন নেতার পদ স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কী কারণে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর