[email protected] বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
৪ ভাদ্র ১৪৩৩

পরীক্ষা ছাড়াই ফ্যামিলি কার্ডের গণনাকারী নিয়োগ পেলেন কর্মকর্তার ভাগনি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৬, ১৩:৩০

ফাইল ছবি

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারী (গণনাকারী) নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও কয়েকজনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ও নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। তালিকায় সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি মাদক মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত এক আসামির নামও রয়েছে।

এ ঘটনায় ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের সদস্যসচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার আবদুল্লাহিল কাফির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।

রৌমারী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারি প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকায় যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি এলাকার নাসরিন আক্তারের নাম রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন পরীক্ষার্থীর দাবি, নাসরিন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেননি। তিনি প্রকল্পের সদস্যসচিব আবদুল্লাহিল কাফির ভাগনি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আবদুল্লাহিল কাফির আরেক ভাগনি মাসুমা আক্তার বৈবাহিক সূত্রে অন্য জেলার বাসিন্দা হলেও তার নামও চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। একইভাবে রৌমারী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

তবে নাসরিন আক্তারের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নিয়েছেন। তবে কবে, কোথায় এবং কারা তার ভাইভা নিয়েছেন—এ বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। ভাইভায় কী ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাও জানাতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নাসরিনের এক প্রতিবেশী জানান, তারা রৌমারীতে ভাইভায় অংশ নিয়েছেন। তাদের ইউনিয়নের অনেক প্রার্থীও ভাইভায় উপস্থিত ছিলেন। তবে ওই ভাইভায় নাসরিনকে দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারী পদে মাদক মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত এক ব্যক্তির নাম থাকায়ও প্রশ্ন উঠেছে। চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, যাদুরচর ইউনিয়নের শ্রীফলগাতী গ্রামের আকিব হাসান সিফাতের নামও তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর ১ হাজার ৯৬০টি ইয়াবাসহ ঢাকার মিরপুর মডেল থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন আকিব হাসান সিফাত। এ ঘটনায় তিনি পাঁচ মাসের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় ও নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ও নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করার কথা। কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান দেওয়ার কারণে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের সদস্যসচিব আবদুল্লাহিল কাফির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার ভাগনি নাসরিন আক্তার ভাইভায় অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি তেমন কিছু জানেন না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেছেন।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন কমিটির সভাপতি মাহবুবুল হাসান বলেন, তিনি রৌমারীতে যোগদানের আগেই নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আগের ইউএনওর সিলগালা করা ফাইলের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। কেউ নিষিদ্ধ দল বা কোনো মামলায় জড়িত থাকলে তাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর