[email protected] রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ইরান ইস্যুতে আতঙ্ক, বড় দরপতনে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ মার্চ ২০২৬, ১১:০২

সংগৃহিত ছবি

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবরে রোববার (১ মার্চ) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। লেনদেন শুরুর পরপরই অধিকাংশ খাতের শেয়ারের দাম কমে প্রধান সূচকে বড় পতন হয়।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরু হতেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান সূচক ২০৮ পয়েন্ট কমে যায়। তবে কিছুক্ষণ পর ক্রেতাদের আংশিক সক্রিয়তায় পতনের মাত্রা কিছুটা কমে। প্রথম ১০ মিনিটে সূচক প্রায় ১০০ পয়েন্ট উদ্ধার হয়। এরপরও বাজারে সার্বিকভাবে বিক্রির চাপ বেশি থাকায় সূচক বড় পতনের মধ্যেই থাকে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ডিএসইতে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯টির। এ সময় প্রধান সূচক কমেছে ১৪৩ পয়েন্ট। ডিএসই-৩০ সূচক ৫৫ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ২৫ পয়েন্ট কমে। লেনদেন হয়েছে ২৫৩ কোটি ৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এও দরপতনের চিত্র দেখা গেছে। সিএএসপিআই সূচক কমেছে ৫৪ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৫৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৮টির, কমেছে ৪৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশীয় পুঁজিবাজারেও। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে আসেন, ফলে শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়।

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, ইরানে হামলার পর তেলবাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব আশঙ্কা পুঁজিবাজারে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করেছে।

একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার খবরে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ান। ফলে অল্প সময়েই বড় দরপতন ঘটে।

তবে একটি শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেন, এখন আতঙ্কে বিক্রি না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা উচিত। অনেক সময় তাৎক্ষণিক পতন পরবর্তীতে আংশিকভাবে কাটিয়েও ওঠে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের শেয়ারবাজার দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার এখন অবমূল্যায়িত অবস্থায় আছে। বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বিক্রির চাপ না বাড়ালে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর