[email protected] মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কাতারের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, চাপে ভারত-পাকিস্তান-ইতালি-বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:১৯

ফাইল ছবি

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কিছু নির্ধারিত এলএনজি কার্গো নভেম্বর পর্যন্ত বাতিল হতে পারে। একই ধরনের নোটিশ পেয়েছে ভারতের অন্তত একজন ক্রেতা। অন্যদিকে ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন জানিয়েছে, কাতার থেকে তাদের এলএনজি সরবরাহ ডিসেম্বরের

ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কাতারএনার্জি চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রেতাদের জানিয়েছে, এলএনজি কার্গো বাতিলের সিদ্ধান্ত নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। ভারতের অন্তত একজন ক্রেতাকেও একই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। তবে কাতারএনার্জি এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ইতালির এডিসন পৃথকভাবে জানিয়েছে, কাতার থেকে তাদের এলএনজি সরবরাহ ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। কাতারএনার্জি এর আগে এপ্রিল থেকে এডিসনের সরবরাহে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা করেছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়ল।

মাসে মাসে বাড়ছে স্থগিতাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কাতারএনার্জি তাদের এলএনজি গ্রাহকদের নিয়মিতভাবে সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিভিন্ন সময় নির্ধারিত কার্গো বাতিল ও সরবরাহ স্থগিত করা হয়েছে। মার্চে প্রথম ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণার পর থেকে এর মেয়াদ ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে।

‘ফোর্স ম্যাজিউর’ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কোনো কারণে চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ বা দায়িত্ব পালন সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তিগত দায় থেকে সাময়িক অব্যাহতি পাওয়া যায়।

হরমুজ দিয়ে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সংকট কাটেনি

চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কাতারের এলএনজি পরিবহন কিছুটা বেড়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সরবরাহ এখনো অনেক কম। রয়টার্সের হিসাবে, আগস্টের শেষ নাগাদ কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রফতানি করতে পেরেছিল, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৫০৯টি।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে কাতারের রফতানির পাশাপাশি বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও চাপ তৈরি হয়।

বাংলাদেশে বাড়তে পারে জ্বালানি চাপ

বাংলাদেশ কাতারের এলএনজির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। ফলে নভেম্বর পর্যন্ত সরবরাহ স্থগিতের সিদ্ধান্ত দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এর আগে কাতারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশকে বিকল্প উৎস ও স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহের দিকে যেতে হয়েছে।

সরবরাহ ঘাটতি পূরণে বিকল্প উৎস থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যয় বাড়তে পারে। আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়লে এর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।

শীতের আগে বাড়ছে উদ্বেগ

উত্তর গোলার্ধে শীত মৌসুম সামনে থাকায় এলএনজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। শীতকালে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গ্যাসের চাহিদা সাধারণত বেড়ে যায়। এ সময় কাতারের মতো বড় সরবরাহকারীর রফতানি কম থাকলে বিকল্প উৎস থেকে কার্গো সংগ্রহের প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

রাস লাফানে ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদন অবকাঠামো

হরমুজ প্রণালির সংকটের পাশাপাশি কাতারের এলএনজি উৎপাদন অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্চে হামলার পর দেশটির প্রধান এলএনজি রফতানি কেন্দ্র রাস লাফানে উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

কাতারএনার্জি অবশ্য হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি রাখছে। তবে নৌপথের বাধা দূর হওয়ার পরও কাতারের এলএনজি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

ফলে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের এলএনজি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকছে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর