২০২৪ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন করা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের হিসাবে ঝরে পড়ার হার ৩৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। বিষয়টিকে শিক্ষাবিদরা উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করলেও এর পেছনে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেসকো আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরেছে যে পরীক্ষা দিতে হলে নিয়মিত পড়াশোনা করতেই হবে। অনেকেই যথাযথ প্রস্তুতি নিতে না পারায় ফরম পূরণ করেনি এবং পরীক্ষায়ও অংশ নেয়নি।
তিনি বলেন, এসএসসির পর এইচএসসি কিংবা দাখিলের পর আলিম পর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া আগে থেকেই ছিল। অনেক মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়, অনেক ছেলে কর্মজীবনে যুক্ত হয়। তবে এবার ঝরে পড়ার হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এ বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে ঝরে পড়ার হার কমাতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের মনিটরিং বৃদ্ধি এবং সিলেবাস, কারিকুলাম ও শিক্ষা কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করে ১৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৮৮ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৩২ জন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করে। কিন্তু এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মাত্র ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৩ জন। ফলে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, যা মোট রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষার্থীর ৩৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬১ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৭ জন এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছে। বাকি ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৪ জন ফরম পূরণ করেনি। এ বোর্ডগুলোতে ঝরে পড়ার হার ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে দাখিল পাস করে আলিম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৭৮ হাজার ২৬৯ জন। ফরম পূরণ করেনি ৬১ হাজার ৬৬০ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়ার হার দেখা গেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে। এসএসসি পাস করে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন করা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ শিক্ষার্থীর মধ্যে এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৭৫ হাজার ১৯৭ জন। বাকি ৯০ হাজার ৩৪৫ জন পরীক্ষায় বসছে না। কারিগরি বোর্ডে ঝরে পড়ার হার ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
এদিকে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী ঝরে পড়ার এ হারকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া নতুন নয়, তবে এবার তা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এর কারণ অনুসন্ধান এবং আগামী বছরগুলোতে এ প্রবণতা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, আগে মূলত মেয়েদের ঝরে পড়ার ঘটনা বেশি দেখা গেলেও এখন ছেলেরাও উল্লেখযোগ্য হারে শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। অনেকেই কিশোর গ্যাং, অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশ কিংবা অন্যান্য সামাজিক সমস্যায় জড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: