আগামী ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিগতভাবে আগের মতোই লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে নামেমাত্র পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। আগের মতোই লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অন্য শ্রেণিগুলোর বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর ঘোষণার পর থেকেই অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকেই শিশুদের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে কোচিং সেন্টার ও গৃহশিক্ষকের শরণাপন্ন হতে শুরু করেন।
অভিভাবকদের এই উদ্বেগ কমাতে শিক্ষামন্ত্রী নামেমাত্র পরীক্ষা নেওয়ার কথা বললেও তাতে দুশ্চিন্তা পুরোপুরি দূর হয়নি। এ পরিস্থিতিতে আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কোচিংনির্ভরতা কমানো এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণিতে লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা চালু করা হয়।
এর আগে চলতি বছরের ১৬ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করা হবে। একই দিনে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৭ সাল থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা বাতিল করে নতুন ভর্তি নীতিমালা চালু করা হবে।
এদিকে, বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিসংখ্যান ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ছেলে এবং ১৭ লাখ ৯৯ হাজার মেয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: