ক্ষমতার লড়াই, রক্তাক্ত প্রতিশোধ, ছদ্মবেশ, বিশ্বাসঘাতকতা আর ভালোবাসার জটিল সমীকরণ। সবকিছুকে এক সুতোয় গেঁথে পাঠকদের সামনে হাজির হয়েছে লেখক তারিন জাহানের প্রথম উপন্যাস ‘ব্লাড এম্পায়ার’। প্রকাশের পর থেকেই উপন্যাসটি পাঠকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। ‘কাঠ গোলাপ’ ও ‘পদ্মজা’র মতো জনপ্রিয় দুটি মোবাইল অ্যাপেও জায়গা করে নিয়েছে উপন্যাসটি।
উপন্যাসের গল্পে ক্ষমতার লোভ থেকেই শুরু হয় এক ভয়ংকর রক্তের খেলা। সেই খেলা একপর্যায়ে এমন রূপ নেয়, যেখানে ক্ষমতার জন্য আপন ভাইকেও হত্যা করতে পিছপা হয় না কেউ। আর সেই রক্তাক্ত খেলার অবসান ঘটাতেই নিজের আসল পরিচয় গোপন করে ‘ব্লাড এম্পায়ার’-এ প্রবেশ করে গল্পের নায়িকা।
তার লক্ষ্য একটাই আরভিদ বংশের সর্বশেষ বংশধরকে শেষ করা।
কিন্তু প্রতিপক্ষ নিশানের কোনো দুর্বলতা নেই। তাই তাকে পরাজিত করার জন্য নায়িকা নিজেকেই নিশানের দুর্বলতা বানিয়ে নেয়। ধীরে ধীরে তার বিশ্বাস অর্জন করে, তৈরি করে ভালোবাসার জায়গা। নিশানও বুঝতে পারে না, যাকে সে নিজের হৃদয়ের কাছের মানুষ করে নিয়েছে, সেই মানুষটিই আসলে তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় খেলাটি খেলছে।
গল্পে পুরো আন্ডারওয়ার্ল্ড যার নিয়ন্ত্রণে, সেই মাফিয়া মনস্টার নিশানও বারবার পরাজিত হয় রহস্যময় ‘ডেভিল কুইনের’ কাছে। তার চোখের সামনে ঘটে যায় ১০টি খুন। অথচ কোনো হত্যাকাণ্ডেরই কোনো ক্লু খুঁজে পায় না সে। এমনকি ডেভিল কুইনের আসল পরিচয়ও দীর্ঘসময় তার অজানা থেকে যায়।
সত্য যখন প্রকাশ পায়, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।
জীবনে প্রথমবারের মতো পরাজিত হয় এই মাফিয়া মনস্টার। আর সেই পরাজয় আসে এমন একজনের কাছে, যাকে সে নিজের অজান্তেই ভালোবেসে ফেলেছিল।
তবে ডেভিল কুইনের জয়ও শেষ পর্যন্ত পূর্ণ জয় হয়ে ওঠে না। যে যুদ্ধের প্রকৃত কারণ সে জানে না, যে ষড়যন্ত্রের নেপথ্যের মানুষদের সে চেনে না, সেই যুদ্ধে জয় পেলেও সত্যিকারের বিজয়ী হওয়া সম্ভব নয়। এতদিন যাদের ওপর অন্ধবিশ্বাস রেখে সে এই খেলায় নেমেছিল, শেষ পর্যন্ত তারাই ছিল তার সবচেয়ে বড় শত্রু। অন্যদিকে, যাকে শত্রু ভেবে এতদিন লড়াই করেছে, সে ছিল ভুল মানুষ।
গল্পের আরেকটি করুণ অধ্যায় তৈরি হয় আরিয়ান ও তারিণীকে ঘিরে। আরিয়ান তারিণীকে ভালোবেসেছিল ঠিকই, কিন্তু সেই ভালোবাসার ভিত্তি ছিল মিথ্যার ওপর। সত্য জানার পর তারিণীর ভালোবাসা রূপ নেয় গভীর ঘৃণায়। সেই ঘৃণার পরিণতিতে আরিয়ানের জীবনে নেমে আসে ১২ বছরের বন্দিত্ব। হারাতে হয় তার শ্রবণশক্তি, বাকশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি।
শেষ পর্যন্ত নিজের ভালোবাসার মানুষের হাতেই ঝরে যায় আরিয়ানের জীবন।
রক্ত, প্রতিশোধ, ক্ষমতার লড়াই, বিশ্বাসঘাতকতা ও ভালোবাসার করুণ পরিণতিতে তৈরি ‘ব্লাড এম্পায়ার’ লেখক তারিন জাহানের প্রথম উপন্যাস। নতুন লেখক হিসেবে তারিন জাহানের এই উপন্যাস ইতোমধ্যে পাঠকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে মাফিয়া জগতের অন্ধকার, রহস্যময় চরিত্র এবং ভালোবাসা ও প্রতিশোধের টানাপোড়েন গল্পটিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।
উপন্যাস: ব্লাড এম্পায়ার
লেখক: তারিন জাহান
উপন্যাসটি পড়তে: https://kathgolap.online/book.php?id=3965
আলোকিত গৌড়/এম.আর
মন্তব্য করুন: