অনেকেই মনে করেন, কাজী অফিসে গিয়ে কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। আবার কেউ কেউ ধারণা করেন, কাবিননামায় সই করার পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবনযাপন বৈধ। তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি এতটা সহজ নয় বলে জানিয়েছেন ইসলামি আলেমরা।
তাদের মতে, কাবিননামা মূলত বিবাহের একটি নিবন্ধনপত্র বা প্রমাণপত্র। এটি বিয়ের মূল চুক্তি নয়। ফলে শুধু কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেই বিয়ে সম্পন্ন হয় না।
আলেমরা বলেন, শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে সহিহ হওয়ার জন্য পাত্র-পাত্রীর পক্ষ থেকে অথবা তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মৌখিকভাবে ইজাব (বিয়ের প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) সম্পন্ন করতে হয়। এই ইজাব-কবুলই বিয়ের মূল আকদ বা চুক্তি।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, বিয়ের সময় দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ সাক্ষী থাকতে হবে। বিকল্পভাবে একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলা সাক্ষী থাকলেও বিয়ে সহিহ হবে। সাক্ষীদের সামনে স্পষ্টভাবে ইজাব ও কবুল সম্পন্ন হলেই বিয়ের আকদ সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে।
পবিত্র কোরআনে বিবাহকে ‘দৃঢ় অঙ্গীকার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, “আর তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে।” (সুরা আন-নিসা, আয়াত: ২১)
হাদিসেও সাক্ষীর উপস্থিতিকে বিয়ের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া কোনো বিয়ে বৈধ নয়।” (বায়হাকি, দারাকুতনি)
আরেক হাদিসে এসেছে, “তোমরা এ বিবাহ প্রকাশ্যভাবে সম্পন্ন করো।” (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১০৮৯)
ধর্মীয় আলেমরা জানান, যদি সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মৌখিক ইজাব-কবুল না হয়, তাহলে শুধু কাবিননামায় স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হবে না। এমন পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবনযাপনও শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হবে না।
তাদের ভাষ্য, এ অবস্থায় আল্লাহর কাছে তাওবা করা এবং শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী নতুন করে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করা জরুরি। বৈধভাবে সংসার শুরু করতে হলে মহর নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সাক্ষী উপস্থিত রাখা এবং পাত্র-পাত্রীর পক্ষ থেকে মৌখিক ইজাব-কবুল সম্পন্ন করতে হবে। এভাবে নতুন আকদ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিয়ে বৈধ হয়ে যাবে।
আলেমরা আরও বলেন, কাবিননামা বিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র হলেও সেটি নিজে বিয়ে সম্পন্ন করে না। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মৌখিক ইজাব-কবুলই বিয়ের মূল ভিত্তি। তাই শুধু কাবিননামায় সই করলেই বিয়ে হয়ে গেছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।
তথ্যসূত্র: ফাতহুল কাদীর (৩/১০২), আল-বাহরুর রায়েক (৩/৮৩), মাজমাউল আনহুর (১/৪৬৮), রদ্দুল মুহতার (৩/১২), ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/২৭০)
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: