[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্ব বাঘ দিবস আজ

বাড়ছে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা, সংরক্ষণে আশার আলো

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৯

ফাইল ছবি

আজ ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও দৃষ্টিনন্দন বন্যপ্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর এ দিনটি পালন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য— ‘বাঘ করি সংরক্ষণ, সমৃদ্ধ হবে সুন্দরবন’।

বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণী বাঘ শুধু দেশের গর্বই নয়, বরং বীরত্ব, শক্তি ও মর্যাদার প্রতীক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা প্রজাতির বাঘ থাকলেও সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার তার সৌন্দর্য, শক্তিমত্তা ও অভিযোজন ক্ষমতার জন্য বিশ্বজুড়ে বিশেষ পরিচিত।

সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০১৮ সালের জরিপে যেখানে বাঘের সংখ্যা ছিল ১১৪টি, সেখানে ২০২৩-২৪ সালের সর্বশেষ জরিপে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫টিতে। গত ছয় বছরে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বাঘের সংখ্যা। বর্তমানে সুন্দরবনের প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে গড়ে ২ দশমিক ৬৪টি বাঘের উপস্থিতি রয়েছে।

বন বিভাগ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে শিকার প্রতিরোধ, বন পাহারা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলেই বাঘের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সুন্দরবনে আরও বেশি সংখ্যক বাঘের নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অতীতে বিভিন্ন জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। ১৯৭৫ সালে এক জরিপে বাঘের সংখ্যা ছিল ৩৫০টি। ১৯৯১ সালে একটি বিদেশি সংস্থা ৪৫৯টি এবং ১৯৯৩ সালে ৩৬২টি বাঘের তথ্য প্রকাশ করে। ২০০৪ সালে পায়ের ছাপ বা পাগমার্ক পদ্ধতিতে পরিচালিত জরিপে বাংলাদেশ অংশে ৪১৯টি পূর্ণবয়স্ক বাঘের তথ্য দেওয়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই পদ্ধতিতে একই বাঘ একাধিকবার গণনায় আসার সম্ভাবনা থাকায় সংখ্যাটি পুরোপুরি নির্ভুল ছিল না।

পরবর্তীতে ক্যামেরা ট্র্যাপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাঘ গণনা শুরু হলে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যায়। ২০১৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে ১০৬টি বাঘের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। এরপর ২০১৮ সালে সংখ্যা বেড়ে হয় ১১৪টি এবং সর্বশেষ জরিপে তা ১২৫টিতে পৌঁছেছে।

রয়েল বেঙ্গল টাইগার মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবন অঞ্চলে পাওয়া যায়। এছাড়া ভারত, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের কিছু বনাঞ্চলেও বাঘ রয়েছে। একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে তিন মিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং ওজন ২০০ থেকে ২৩৬ কেজির মধ্যে থাকে। তারা এক লাফে ৭ থেকে ৮ মিটার পর্যন্ত অতিক্রম করতে পারে, দক্ষ সাঁতার কাটতে পারে এবং গাছে চড়তেও পারদর্শী।

বাঘ একটি মাংসাশী প্রাণী। হরিণ, বন্য শূকর, বনগরু, মহিষ, কুমির, অজগরসহ বিভিন্ন প্রাণী এদের প্রধান খাদ্য। সুন্দরবনের বাঘ মাছও শিকার করে। একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘের বছরে প্রায় ৩ হাজার ৬৫০ কেজি মাংসের প্রয়োজন হয়। বাঘ সাধারণত আড়াই থেকে তিন বছর বয়সে প্রজননক্ষম হয়। বাঘিনীর গর্ভধারণকাল প্রায় ১০৮ দিন এবং একসঙ্গে দুই থেকে ছয়টি শাবকের জন্ম দেয়। বাঘের গড় আয়ু ১৪ থেকে ২০ বছর।

বাঘ সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় আধুনিক প্রযুক্তিতে বাঘ গণনা, স্যাটেলাইট কলার স্থাপন করে বাঘের চলাচল পর্যবেক্ষণ, রোগ শনাক্তকরণ এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। বন বিভাগের আশা, এসব কার্যক্রম বাঘ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বন উজাড়, অবৈধ শিকার এবং মানুষের অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব। তাদের মতে, বাঘ শুধু একটি বন্যপ্রাণী নয়; এটি সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান নিয়ামক। তাই বাঘকে রক্ষা করা মানেই সুন্দরবনকে রক্ষা করা এবং দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর