[email protected] সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১২ আশ্বিন ১৪৩৩

সনদ নয় দক্ষতাই চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকার মূল চাবিকাঠি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১২

ফাইল ছবি

বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে অনেক শিক্ষার্থীই স্বপ্ন দেখেন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের। তবে পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশের সময় তাদের অনেককেই মুখোমুখি হতে হয় কঠিন বাস্তবতার। ভালো সিজিপিএ কিংবা নামী প্রতিষ্ঠানের সনদ থাকার পরও কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি প্রয়োজন বাস্তব ও পেশাগত দক্ষতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীকে তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ভিত্তি তৈরি করে দেয়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে সেই জ্ঞান প্রয়োগ, সমস্যা সমাধান এবং অন্যদের তুলনায় নিজেকে আলাদা করে তুলতে ব্যবহারিক দক্ষতার বিকল্প নেই। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি সময়োপযোগী বিভিন্ন দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

সনদ প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে, দক্ষতা টিকিয়ে রাখে

বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শুধু জিপিএ বা গ্রেডের ওপর নির্ভর না করে প্রার্থীর বাস্তব কাজের সক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের যোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বইয়ের তত্ত্ব কোনো সমস্যার ধরন বুঝতে সাহায্য করলেও বাস্তব কর্মক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর সমাধান বের করার সক্ষমতা তৈরি হয় ব্যবহারিক দক্ষতার মাধ্যমে।

নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনের ফলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। কর্মক্ষেত্রে জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা, দায়িত্ব পালন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও তা সহায়ক ভূমিকা রাখে।

শিক্ষাজীবনেই আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ

ডিজিটাল মার্কেটিং, প্রোগ্রামিং, ডাটা অ্যানালাইসিস, গ্রাফিক ডিজাইন ও কনটেন্ট রাইটিংয়ের মতো সময়োপযোগী দক্ষতা শিক্ষাজীবনেই অর্জন করা সম্ভব। এসব দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম কাজ বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এর ফলে নিজের প্রয়োজন মেটানোর আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রজেক্ট, সংগঠন ও পেশাজীবীদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে যোগাযোগ ও নেতৃত্বের দক্ষতাও গড়ে ওঠে।

সফট স্কিলও গুরুত্বপূর্ণ

পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সফট স্কিল বা আচরণগত দক্ষতাও চাকরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কার্যকর যোগাযোগ, স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা, দলগতভাবে কাজ করা এবং সংকটময় পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো দক্ষতা শুধু পাঠ্যবই পড়ে অর্জন করা কঠিন।

বিভিন্ন প্রজেক্ট, সংগঠন ও বাস্তব কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এসব দক্ষতা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও এসব দক্ষতা কাজে আসে।

প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে কর্মক্ষেত্রের ধরনও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমানে যে দক্ষতার চাহিদা বেশি, প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে তার চাহিদা কমে যেতে পারে। এ কারণে শিক্ষাজীবন থেকেই নতুন দক্ষতা শেখার অভ্যাস তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়মিত দক্ষতা বাড়ানোর চর্চা থাকলে কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে একাধিক ক্ষেত্রে দক্ষতা থাকলে বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।

দক্ষতা অর্জনেই ভবিষ্যতের প্রস্তুতি

পড়াশোনা শেষে চাকরি না পাওয়ার দুশ্চিন্তায় না থেকে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রতিটি দিনকে নতুন কিছু শেখার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যেমন একজন শিক্ষার্থীকে জ্ঞানের ভিত্তি তৈরি করে দেয়, তেমনি পেশাগত ও ব্যবহারিক দক্ষতা তাকে সেই জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগানোর সক্ষমতা দেয়।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মবাজারে তাই শুধু একটি সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সময়োপযোগী দক্ষতা, সফট স্কিল এবং বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের দিকে গুরুত্ব দেওয়াই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর