[email protected] বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২২ মাঘ ১৪৩২

রাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব ও সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আবু বকর সৈকত

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:৫১
আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:০২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক কলঙ্ক দূর করার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসুর) উদ্যোগে ও মেন্টাল হেলথ ক্লাবের সহোযোগিতায় আয়োজিত হয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার। এতে মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ‎

‎শনিবার (৩১ই ডিসেম্বর) বিকাল ৪টায় রহমাতুন্নেসা হলের টিভি রুমে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

‎“Breaking the Stigma: Let’s Talk About Mental Health” হলো সাধারণত মানসিক সমস্যা কোনো লজ্জা, দুর্বলতা বা পাগলামি নয়। সমাজে এই ভুল ধারণা ও ভয়কে ভেঙে দিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা, একে অপরকে বোঝা ও সহযোগিতা করা—এই বার্তাই এখানে দেওয়া।

‎রাকসু'র  মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সাইয়েদা হাফসা বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে, আমরা দেখতে পেয়েছি গতকালও সমাজকর্ম বিভাগের ইতি নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে মারা গিয়েছেন মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে।  আমরা চাই না আামদের  আর কোনো বোন আর কোনো শিক্ষার্থী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে কাউন্সিলিংয়ের অভাবে তার জীবনকে শেষ করে দিতে। তাই আমাদের এই মেন্টাল হেলথ সেমিনারের আয়োজন

‎রাজশহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও টিএসসিসি পরিচালক ড. মুর্শিদা ফেরদৌস বি. হাবিব বলেন, আমাদের সমাজে মানসিক সমস্যা একটি কমন বিষয়। কারও মধ্যে মানসিক সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে অবশ্যই একজন দক্ষ চিকিৎসক বা পরামর্শকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কে কী বলবে বা সমাজ কী ভাববে—এই ধরনের নেতিবাচক স্টিগমা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে। কারণ অবহেলিত মানসিক সমস্যা একজন মানুষকে ধীরে ধীরে ভুল পথে ঠেলে দিতে পারে এবং একপর্যায়ে সে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।

‎তিনি আরও বলেন,মানসিক সমস্যার কথা সর্বপ্রথম বাবা-মা তথা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত। পরিবার হলো একজন মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। কোনো কারণে যদি পরিবারকে জানানো সম্ভব না হয়, তাহলে বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করা যেতে পারে। আর যদি সেখানেও সমাধান না মেলে, তবে অবশ্যই পেশাদার চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য

‎মেন্টাল হেল্থের সভাপতি (MHCRU)আশরাফুজ্জামান মুবিন বলেন ,মানসিক স্বাস্থ্য এমন একটা জিনিস যা আমাদের সকল কাজের মূল। যারা ডিপ্রেশনে থাকে তারাই আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটায়। আমাদের মেন্টাল হেলথ ক্লাব কাজ করে যাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে  মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার কারনে এ সকল ঘটনা না ঘটে।

‎আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য এ সেমিনারটি উন্মুক্ত। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থ জীবন গঠনে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

‎এ সেমিনারে প্রধান আলোচক ও ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও টিএসসিসি পরিচালক ড. মুর্শিদা ফেরদৌস বি. হাবিব। মেন্টাল হেলথ ক্লাবের সভাপতি আশরাফুজ্জামান মুবিন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসুর) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির, মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মুজাহিদ ও সহকারী মহিলা বিষায়ক সম্পাদক সামিয়া জাহান।

‎প্রসঙ্গত, উক্ত সেমিনারে রহমাতুন্নেসা হলের সকল শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করেন।

এম.এম

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর