[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
৩ বৈশাখ ১৪৩৩

সাত পাহাড়ের মুকুট খ্যাত মিহরিমাহ সুলতান মসজিদ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:১৪

সংগৃহিত ছবি

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের ফাতিহ জেলায় ঐতিহাসিক নগরপ্রাচীরের পাশে অবস্থিত এদিরনেকাপি এলাকার মিহরিমাহ সুলতান মসজিদ উসমানীয় স্থাপত্যের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে পরিচিত।

প্রখ্যাত উসমানীয় স্থপতি মিমার সিনান–এর নকশায় ১৫৬৩ থেকে ১৫৬৬ সালের মধ্যে মসজিদটি নির্মিত হয়। নির্মাণের পর থেকেই এটি নিয়মিত ধর্মীয় ইবাদতের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এই মসজিদের নির্মাণে উদ্যোগ নেন উসমানীয় সম্রাট সুলতান সুলায়মান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট–এর কন্যা মিহরিমাহ সুলতান। তার নামানুসারেই মসজিদটির নামকরণ করা হয়।

ইস্তাম্বুলের সাতটি পাহাড়ের একটির ওপর উঁচু স্থানে নির্মিত হওয়ায় এটি “সাত পাহাড়ের মুকুট” নামেও পরিচিত। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এটি শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন।

মসজিদের প্রধান নামাজ কক্ষ একটি বিশাল কেন্দ্রীয় গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত, যা চারপাশের খিলান কাঠামো দ্বারা সমর্থিত। স্থপতি মিমার সিনান এখানে প্রশস্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ অভ্যন্তরীণ নকশার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

মসজিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অসংখ্য জানালা, যার মাধ্যমে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করে ভেতরের পরিবেশকে উজ্জ্বল ও খোলামেলা করে তোলে।

প্রাথমিকভাবে বর্গাকার পরিকল্পনায় নির্মিত হলেও পরবর্তীতে পাশের অংশে ছোট গম্বুজ যুক্ত করে এটি আয়তাকার রূপ দেওয়া হয়। প্রধান গম্বুজটির ব্যাস প্রায় ২০ মিটার, যা সেই সময়ের স্থাপত্য কৃতিত্ব হিসেবে বিবেচিত।

এটি একটি বৃহত্তর ধর্মীয় ও সামাজিক কমপ্লেক্সের অংশ ছিল, যেখানে মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাম্মাম, বাজারঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখানে একটি সমাধিও রয়েছে, যেখানে মিহরিমাহ সুলতানের জামাতা সেমিজ আহমেত পাশা শায়িত আছেন।

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, বিভিন্ন ভূমিকম্পে বিশেষ করে ১৭৬৬ সালের ভূমিকম্পে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর কিছু অলঙ্করণ নষ্ট হয়ে যায়।

পর্যটক এভলিয়া চেলেবি তার ভ্রমণবৃত্তান্তে মসজিদটির প্রশংসা করে একে “অত্যন্ত সুশোভিত স্থাপনা” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

আজও ইস্তাম্বুল শহরের এই মিহরিমাহ সুলতান মসজিদ উসমানীয় ইতিহাস ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর