ইরানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে প্রাণঘাতী সরকারি দমন–পীড়ন উপেক্ষা করেও দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনকারীরা।
বিবিসির যাচাই করা ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে দেখা গেছে, বিক্ষোভ দমনে সরকার আরও কঠোর অবস্থানে গেছে। চলমান এই আন্দোলন ইরানের প্রতিটি প্রদেশের একশটিরও বেশি শহর ও নগরে ছড়িয়ে পড়েছে।
দুইটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, মাত্র দুই দিনে শতাধিক মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। দেশজুড়ে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলার হুমকি দিয়েছে। এ বিষয়ে ইরানের সংসদের স্পিকার যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইসরায়েলসহ পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও নৌ পরিবহন কেন্দ্রগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
তীব্র মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদ থেকেই রাজধানী তেহরানে প্রথম এই আন্দোলনের সূচনা হয়। ধীরে ধীরে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বর্তমানে আন্দোলনকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনের অবসান দাবি করছেন।
এদিকে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা বিক্ষোভে অংশ নেবে তাদের ‘এনিমি অব গড’ বা ‘প্রভুর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। দেশটির আইনে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
অন্যদিকে আয়াতুল্লাহ খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘একদল দুষ্কৃতকারী’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতেই এই আন্দোলন করছে।
তবে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘সহায়তা করতে প্রস্তুত’, কারণ দেশটির জনগণ স্বাধীনতা চাইছে।
একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে আন্দোলন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজার পাঁচশোরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: