[email protected] সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১০ ফাল্গুন ১৪৩২

তেহরানে শিক্ষার্থীদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫১

সংগৃহিত ছবি

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত শোক র‍্যালিকে ঘিরে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার স্থানীয় ও প্রবাসী ইরানবিষয়ক কয়েকটি গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

শনিবার তেহরানের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় Sharif University of Technology-এ বিক্ষোভের কিছু ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি)। ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে শুরু করলে সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ভিড়ের মধ্যে ফারসি ভাষায় ‘নির্লজ্জ’ বলে চিৎকার শোনা যায়।

বিদেশ থেকে পরিচালিত ফারসি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল Iran International-এর প্রকাশিত ফুটেজেও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। ধর্মীয় নেতৃত্ববিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার-সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

ইরানে গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তুঙ্গে ওঠে। এতে কয়েক হাজার মানুষের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শিয়াধর্মাবলম্বীদের রেওয়াজ অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তিদের ৪০তম দিনে স্মরণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহে নিহতদের স্মরণে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষ আবারও রাস্তায় নেমে আসেন।

স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার রাজধানীর একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে ‘শান্তিপূর্ণ ও নীরব অবস্থান’ কর্মসূচি পালন করেন। তবে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান দেওয়া শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই স্লোগান ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ইঙ্গিত করে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স’ প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি ইরানের পতাকা হাতে সরকারসমর্থক স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁদের মুখোমুখি অবস্থান নেয় মাস্ক পরা আরেক দল বিক্ষোভকারী। উভয় পক্ষের হাতেই সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের ছবি ছিল। স্যুট পরা কয়েকজন ব্যক্তি দুই পক্ষকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটকে কেন্দ্র করে গত ডিসেম্বরে তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমন করে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি, সরকারি বাহিনীর হাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইরান কর্তৃপক্ষ তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। তবে তাদের দাবি, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ এবং বিদেশি প্ররোচনার কারণেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Activists News Agency (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক আন্দোলনে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই এসব বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের কাছাকাছি এলাকায় সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump বিক্ষোভ দমনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর