ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, একাধিক রাডার ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা নজরদারিকে বড় ধরনের আঘাত করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাতটিরও বেশি অত্যাধুনিক রাডার ধ্বংস করা হয়েছে, যা দুই দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ১৭তম ধাপ সম্পন্ন করেছে। এ অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপিত ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ইসরায়েলের যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষায়, এর মাধ্যমে ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার জায়নিস্ট শাসনের চোখ অন্ধ করে দেওয়া হয়েছে’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে দখলকৃত অঞ্চলে সাইরেন বাজছে এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন। আইআরজিসির মতে, এটি ‘সন্ত্রাসী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ধারাবাহিক ও নিয়ন্ত্রিত ছন্দের প্রমাণ’।
তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আগামী দিনগুলোতে হামলা আরও তীব্র ও বিস্তৃত হবে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অভিযানে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তেল আবিব ও পবিত্র নগর আল-কুদস ছাড়াও কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া বাহিনীটি দাবি করেছে, ভারত মহাসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’ এবং একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারেও আঘাত হানা হয়েছে, যা তাদের ভাষায় ‘শক্তিশালী ও কৌশলগত হামলা’।
সূত্র: প্রেসটিভি।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: