যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-এর মৃত্যুর ঘটনায়। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এই নেতা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে চালানো হামলায় নিহত হন। তার নেতৃত্বে ইরান আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।
এছাড়া ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন Ali Larijani, যিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক সচিব এবং অভিজ্ঞ কূটনীতিক ছিলেন। গত ১৭ মার্চ পারদিস এলাকায় হামলায় তিনি নিহত হন। একই ঘটনায় তার ছেলে ও একজন উপদেষ্টাও প্রাণ হারান।
ইরানের গোয়েন্দা প্রধান Esmail Khatib ১৮ মার্চ ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। তার মৃত্যুতে দেশের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়া সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা Ali Shamkhani-ও একই হামলায় নিহত হয়েছেন। তিনি ইরানের পারমাণবিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
সামরিক নেতৃত্বেও বড় ক্ষতি হয়েছে। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান Islamic Revolutionary Guard Corps-এর কমান্ডার Mohammad Pakpour তেহরানের হামলায় নিহত হন।
একই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Aziz Nasirzadeh এবং সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ Abdolrahim Mousavi-ও প্রাণ হারান।
অন্যদিকে, বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর কমান্ডার Gholamreza Soleimani যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
এই ধারাবাহিক হামলার ফলে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রভাব শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থায়ও এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: