আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিস্থিতি এখন ইরানের পক্ষে ঘুরে গেছে বলে দাবি করেছে তেহরান। দেশটি জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর আওতায় ৭৪তম দফায় বড় আকারের হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘আমিরুল মুমিনীন’ স্লোগানকে সামনে রেখে পরিচালিত এ অভিযানে ১৯৮২ সালের ফাতহ আল-মুবিন অভিযানের শহীদদের স্মরণ করা হয়। হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের তেল আবিবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বয়ে চালানো এ হামলায় সৌদি আরবে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং কুর্দি কোমালা যোদ্ধাদের একটি ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে। এতে ইমাদ, ফাত্তাহ ও কিয়াম ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি বিশেষ ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
ইরান আরও দাবি করেছে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে তেল আবিব, পেতাহ তিকভা, হোলন এবং রামাত গানের বিভিন্ন সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে। এসব হামলায় কাদির, খাইবার শেকান এবং খোররামশাহর-৪ ধরনের ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম এবং ইসরায়েলের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এ হামলার মুখে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য এখন ইরানের দিকে ঝুঁকেছে বলে তারা উল্লেখ করে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে হতাশা ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইসরায়েল হায়োম ও হারেৎজ–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এখন ইরানই নির্ধারণ করছে।
এছাড়া, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের প্রভাব ও সম্ভাব্য অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের মানবিক বা জ্বালানি অবকাঠামোতে নতুন করে হামলা হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
সূত্র: আল মায়াদিন
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: