মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে গোটা অঞ্চলের জ্বালানি ও পানিসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ‘অপরিবর্তনীয়ভাবে ধ্বংস’ করার হুমকি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারির জবাবেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান।
রোববার (২২ মার্চ) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেন, জ্বালানি স্থাপনা ও পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজনে এসব স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে বলেও জানান তিনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে।
এর জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ জানিয়েছে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও পানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দেয়, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত তা আর খোলা হবে না।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে বলেছে, বিদ্যুৎ, পানি ও তাপ সরবরাহকারী অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে। এমন হামলা কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধ হিসেবেও গণ্য হতে পারে।
ইরানের পদক্ষেপে ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন হয়।
এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং ইউরোপে গ্যাসের দাম গত সপ্তাহে প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো কিছু দেশকে সীমিতভাবে প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হলেও, মোট জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় পাঁচ শতাংশে নেমে এসেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: