যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে ইরান। এ পরিস্থিতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফরে যাচ্ছেন।
রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সফরে যুদ্ধ পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা হবে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে দেওয়া বক্তব্যে জালালি বলেন, তেহরান ও মস্কোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিনবার ফোনে কথা বলেছেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আরাগচির আসন্ন মস্কো সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ সফর চলমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে কাতারও কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি ফোনে আরাগচির সঙ্গে কথা বলেছেন।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের উপায় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী সব পক্ষকে চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকটের মূল কারণগুলো সমাধান করা গেলে টেকসই চুক্তির পথ খুলে যাবে এবং নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি কমবে।
তিনি আরও বলেন, সমুদ্রপথ খোলা রাখা এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এসব পথকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে আঞ্চলিক দেশগুলোর পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: