[email protected] শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৬ হাজার প্রাণহানির পরও থামছে না ইরান-ইসরায়েল সংঘাত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৫৮

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা আঘাতের পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের আড়াই মাসে নিহতের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৬৮ জন এবং লেবাননে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৭০২ জন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী অঞ্চলটির পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ।

পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে ইসরায়েলে ২৬ জন নিহত এবং সাত হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালনরত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

এদিকে যুদ্ধবিরতির চুক্তি থাকা সত্ত্বেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে দুটি শহরের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে তেল আবিব। লেবাননে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন আট হাজারের বেশি মানুষ এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি নাগরিক। হিজবুল্লাহও ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

সংঘাতের প্রভাব পড়েছে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়েও। ইরান বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে কুয়েতে ৭ জন, ওমানে ৩ জন, সৌদি আরবে ৩ জন এবং বাহরাইনে ৩ জন নিহত হয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ১০ জন প্রবাসী কর্মী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন জাহাজে হামলা হলে ইরানকে “পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেওয়া হবে”।

জবাবে ইরান জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া তাদের জলসীমায় প্রবেশ করা কোনো জাহাজকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৯টি সামরিক ঘাঁটি এবং প্রায় ৫০ হাজার সেনার উপস্থিতির কারণে এই সংঘাত পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে। ইতোমধ্যে কাতারে গ্যাস উৎপাদন স্থগিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর