[email protected] সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর পাল্টা জবাব, জেরুজালেমে সাইরেন; আকাশসীমা বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২৬, ১০:০২

সংগৃহিত ছবি

ইরানি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান ও তার মিত্ররা। এতে ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেমসহ মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় যুদ্ধকালীন সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে দেশের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, জেরুজালেম এবং গুশ দানসহ মধ্য ইসরায়েলের প্রায় প্রতিটি এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বাজানো হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরায়েলের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দেশটির আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে কোনো বাণিজ্যিক বিমান ইসরায়েলে অবতরণ বা উড্ডয়ন করতে পারছে না।

এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইয়েমেনের দিক থেকেও ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানায়, “ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা প্রতিহত করতে কাজ করছে।”

এর আগে মধ্যরাতে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে তীব্র হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। হামলায় কেঁপে ওঠে তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহান শহর।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, তেহরানে অন্তত দুটি এবং ইসফাহানে অন্তত তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ হয়েছে।

হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, পশ্চিম ও মধ্য ইরানে “সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে” হামলা চালানো হয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। লেবাননে ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সম্প্রতি উত্তর ইসরায়েল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল ইরান। এর আগে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ২০ জন আহত হন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়ে গেল।

সূত্র: আল-জাজিরা

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর