[email protected] রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইসরাইলের পাশে আর্জেন্টিনা, ইউরোপীয় ইহুদিদের আর্জেন্টিনায় বসবাসের আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ১৪:৪২

সংগৃহিত ছবি

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ইহুদি-খ্রিস্টীয় মূল্যবোধের প্রশংসা করে বলেছেন, এসব মূল্যবোধ গ্রহণ করলে মানুষের আধ্যাত্মিক ও পার্থিব জীবনের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রভাবশালী ইহুদি ধর্মীয় নেতা রাব্বি মেনাহেম মেন্ডেল শ্নিয়ারসনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী বুয়েনোস আইরেসের পালাসিও লিবের্তাদ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

গত সোমবার অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার ৮০০ ইহুদি অংশ নেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে মিলেই বরাবরের মতো ইসরাইল ও ইহুদি জাতির প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। বুধবার ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মিলেই বলেন, তিনি এমন এক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যা গঠনে সহজ হলেও এর তাৎপর্য গভীর। তার মতে, ইহুদি-খ্রিস্টীয় মূল্যবোধ গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের আধ্যাত্মিক ও পার্থিব জীবন একই সুরে পরিচালিত হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাবাদ আন্দোলনের কোনো বড় অনুষ্ঠানে দায়িত্বশীল একজন অ-ইহুদি রাষ্ট্রপ্রধানের আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনের ঘটনা এটিই প্রথম। নিজেকে ‘নৈরাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া মিলেই দীর্ঘদিন ধরেই ইহুদি ধর্ম ও ইসরাইলের প্রতি তার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন।

২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ইসরাইলপন্থি অবস্থানকে নিজের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে তিনি নিউইয়র্কে রাব্বি শ্নিয়ারসনের সমাধি এবং জেরুজালেমের ওয়েস্টার্ন ওয়াল পরিদর্শন করেন। ২০২৪ সালে মায়ামির একটি চাবাদ সিনাগগে সম্মাননা গ্রহণকালে তিনি দাবি করেন, তার মধ্যে ইহুদি বংশধারার অস্তিত্ব থাকতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ইহুদি ধর্ম নিয়ে অধ্যয়ন করছেন বলেও জানান। এমনকি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অবসরের পর ইহুদি ধর্ম গ্রহণের ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ মিনিটের বক্তব্যে মিলেই মূলত ইহুদি ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি তুলে ধরেন এবং সেগুলোকে তার অর্থনৈতিক দর্শনের ভিত্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার এ অবস্থান আর্জেন্টিনার ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

এদিকে ইউরোপে ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষের প্রেক্ষাপটে আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কুইর্নো ব্রিটেন ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের ইহুদিদের আর্জেন্টিনায় বসবাসের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা সম্ভাবনাময়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এবং লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম ইহুদি সম্প্রদায়ের আবাসস্থল। পাশাপাশি দেশটি ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়াল সেলাও এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ইহুদি জীবনযাপনের জন্য ইসরাইলই সর্বোত্তম স্থান হলেও ইউরোপের তুলনায় আর্জেন্টিনা বর্তমানে অনেক বেশি নিরাপদ ও উপযোগী পরিবেশ প্রদান করছে।

গত এপ্রিলে ইসরাইল সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একাধিক কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করেন মিলেই। ওই সফরে চলতি বছরের শেষ নাগাদ তেল আবিব ও বুয়েনোস আইরেসের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জেরুজালেমে আর্জেন্টিনার দূতাবাস স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর নামকরণ করা হয় ২০২০ সালের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর আদলে। এ সময় নেতানিয়াহু আশা প্রকাশ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের মতো লাতিন আমেরিকাতেও এই মডেল সম্প্রসারণ সম্ভব হবে। অন্যদিকে মিলেই ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’কে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করে আর্জেন্টিনা-ইসরাইল সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মিলেই। তিনি আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রনীতিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পুনর্গঠন করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করে আর্জেন্টিনা।

দেশটির দাবি, ১৯৯২ সালে বুয়েনোস আইরেসে ইসরাইলি দূতাবাসে হামলা এবং ১৯৯৪ সালে একটি ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলার সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তা ও আইআরজিসির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রয়েছে। যদিও ইরান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার পর তেহরান তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আর্জেন্টিনাকে ওই ঘটনাগুলোর ‘অংশীদার’ এবং ‘ইতিহাসের ভুল পক্ষে অবস্থানকারী’ বলে অভিযুক্ত করে। এর জবাবে আর্জেন্টিনা তেহরানের কূটনৈতিক দূতকে বহিষ্কার করে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর