দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তির ১ নম্বর অনুচ্ছেদ বাস্তবায়ন না হলে আলোচনার আর কোনো অর্থ থাকবে না। ওই অনুচ্ছেদে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা সরানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “চুক্তির ১ নম্বর অনুচ্ছেদ বাস্তবায়ন না হলে আলোচনা একেবারেই নিরর্থক।”
এর আগে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা চুক্তি সই করে। সেই চুক্তির পর ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে রোববার সুইজারল্যান্ডে প্রথম দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতার অংশ নিয়েছে। বৈঠক শুরুর ঠিক আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেবানন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ইসরায়েল লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং রোববারের বৈঠকে এটি হবে অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। তবে সেই ঘোষণার পরও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হয়নি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন, লেবানন থেকে আসা হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নিতে থাকবে। তবে ইরান লেবাননে লড়াই বন্ধের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে।
এর আগেও তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া এবং ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্ত না করা পর্যন্ত তারা পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে না। একই সঙ্গে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কোনো আলোচনা করবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: