[email protected] রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
২১ আষাঢ় ১৪৩৩

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তিন ধাপে ইমাম খামেনির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬

ফাইল ছবি

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার নামাজ রোববার (৫ জুলাই) তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহব্যাপী শেষকৃত্য কর্মসূচির তৃতীয় দিনে তেহরানের গ্র্যান্ড প্রেয়ার গ্রাউন্ডে এ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বিশিষ্ট ধর্মীয় আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। এতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ অংশ নেন।

জানাজার নামাজ তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জন্য জানাজা আদায় করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে তার পরিবারের সদস্য সাইয়্যেদে বুশরা হোসেইনি খামেনি, মেসবাহ আল-হোদা বাকেরি এবং জাহরা হাদ্দাদ আদেলের জন্য জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় ধাপে তার নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির জানাজার নামাজ আদায় করা হয়।

খামেনির নিহত হওয়ার পর শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় বিদায়ী অনুষ্ঠান শুরু হয়। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হন।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ইরান সন্তুষ্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, বিশেষ করে আরব দেশগুলোর উপস্থিতি দুই পক্ষের সম্পর্কের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

৩ জুলাই শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী শেষকৃত্য কর্মসূচি ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এতে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্টের স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিশেষ দূতরা অংশ নিচ্ছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ১৯৮৯ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

কর্মসূচি অনুযায়ী, ৭ জুলাই তার মরদেহ কোম শহরে নেওয়া হবে। এরপর ৮ জুলাই ইরাকের বাগদাদ, নাজাফ ও কারবালায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই ইমাম রেজা মাজারে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা তেহরানে উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন দিমিত্রি মেদভেদেভ, জেভদেত ইয়িলমাজ, শেহবাজ শরিফ, আসিম মুনির, ইমোমালি রহমান এবং নিকোল পাশিনিয়ানসহ আরও অনেকে।

প্রসঙ্গত, জেনেভায় আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর দীর্ঘ সামরিক উত্তেজনার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং উভয় পক্ষ নতুন করে আলোচনায় সম্মত হয়। ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন এবং শতাধিক চিকিৎসাকর্মী হতাহত হন।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর