দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের পর ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ডার-ইন-চিফ ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একই সঙ্গে সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত মাইখাইলো ফেদোরভকে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে জেলেনস্কি জানান, সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে জনপ্রিয় ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারার জেনারেল মাইখাইলো ড্রাপাতিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড কাঠামো পুনর্গঠনের দায়িত্বও পালন করবেন।
গত সপ্তাহে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে মাইখাইলো ফেদোরভকে সরিয়ে দেওয়ার পর কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নামেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এটিকে ইউক্রেনের অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বিদায়ী সেনাপ্রধান সিরস্কির অবদানের প্রশংসা করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, কিয়েভের প্রতিরক্ষা এবং ২০২৪ সালে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে পাল্টা অভিযানে সিরস্কির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ওই অভিযানের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো বিদেশি ট্যাঙ্ক রুশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করে।
জেলেনস্কি বলেন, “আমরা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছি। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা অব্যাহত রয়েছে। সিরস্কি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা আমাদের প্রতিটি সৈন্যের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে এই বড় ধরনের রদবদলের মাধ্যমে চলমান জনঅসন্তোষ প্রশমনের চেষ্টা করছেন জেলেনস্কি। বিক্ষোভকারীরা সিরস্কির অপসারণ এবং ফেদোরভের পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। তাদের পক্ষ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল এবং দাবি না মানলে অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: