[email protected] মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশি ক্রুদের দায়িত্ব দেওয়া বন্ধ করল এয়ার ফ্রান্স

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:১৭

ফাইল ছবি

ইসরায়েলের নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনার পর দেশটিতে যাতায়াতকারী ফ্লাইটে বাংলাদেশসহ ৩১টি দেশের নাগরিক ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব দেওয়া বন্ধ করেছে ফরাসি বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স। এ সিদ্ধান্তের ফলে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ফ্রান্সে আইনি জটিলতায় পড়তে পারে বিমান সংস্থাটি। খবর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।

মিডিয়াপার্টের হাতে আসা এয়ার ফ্রান্সের একটি অভ্যন্তরীণ বার্তা অনুযায়ী, ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশকারী ফ্লাইটের কোনো ক্রুর এমন দেশের নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা যাবে না, যে দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

এই নির্দেশনার ফলে কোনো কর্মীর ফরাসি নাগরিকত্ব থাকলেও তাঁর দ্বিতীয় নাগরিকত্ব নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশের হলে তিনি ছাড় পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ ছাড়াও আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান ও পাকিস্তানসহ মোট ৩১টি দেশের নাগরিকেরা এ বিধিনিষেধের আওতায় পড়েছেন।

নির্দেশনায় ধর্মের ভিত্তিতে কোনো নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে জাতীয়তার ভিত্তিতে বিধিনিষেধ আরোপ করায় মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকেরা ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের সুযোগ হারাচ্ছেন। এমনকি ফরাসি নাগরিকত্ব থাকা কর্মীরাও তাঁদের দ্বিতীয় নাগরিকত্বের কারণে এ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ছেন।

মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে এমন কর্মীদের দ্রুত বিষয়টি এয়ার ফ্রান্স কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে এয়ার ফ্রান্স এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এন১২ জানিয়েছে, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিমান চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে এ পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে ওমানি সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং সেটিকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের টার্মিনালে বিধ্বস্ত করার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পরই নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, দেশটির অন্তত একটি বিমান সংস্থা প্রায় ২ হাজার ৫০০ পাইলট ও কেবিন ক্রুর অতীত ইতিহাস যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদারের যুক্তিতে নেওয়া এ পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে জাতীয়তার ভিত্তিতে কর্মীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ফরাসি নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও শুধু দ্বিতীয় নাগরিকত্বের কারণে কর্মীদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে এয়ার ফ্রান্স ফ্রান্সে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই ও আনাদোলু এজেন্সি।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর