রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আবেদনও করা হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। বর্তমানে চার্জশিট গ্রহণ ও মামলাটি ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আবেদন শুনানি চলছে।
এর আগে সকাল ১১টা ২০ মিনিট থেকে ১১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয় বলে জানিয়েছেন হাজতখানার ইনচার্জ এসআই রিপন মোল্লা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান জানান, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত প্রাঙ্গণে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চার্জশিট দাখিলের পর মামলাটি বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর চার্জশিট প্রস্তুতের কাজ শেষ করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাই শেষে তা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার সিআইডি মামলার ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
এদিকে আলোচিত এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ পরিচালনার জন্য সরকার অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই ফ্ল্যাটের বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরদিন নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা প্রতিবেশী সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: