[email protected] রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২ ফাল্গুন ১৪৩২

ভালোবাসা দিবস ও বসন্তে কেন বাড়ে একাকিত্বের অনুভূতি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:০৪

ফাইল ছবি

ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত—দুটি সময়ই সাধারণত প্রেম, রঙ আর উদযাপনের প্রতীক। চারদিকে লাল-হলুদের সাজ, সামাজিক মাধ্যমে দম্পতিদের ছবি, নানা অফার ও আয়োজন—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর আবহ। তবে যারা সিঙ্গল, তাদের সবার কাছে এই সময় সমান আনন্দের নাও হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি নিঃশব্দ মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ স্বভাবতই সামাজিক তুলনায় অভ্যস্ত। সামাজিক মাধ্যমে অন্যের সুখী মুহূর্ত বারবার দেখলে নিজের জীবনকে তুলনা করার প্রবণতা বাড়ে। ২০২২ সালে প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় (Journal of Social and Personal Relationships) দেখা গেছে, সামাজিক মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার একাকিত্ব ও আত্মমূল্যায়নজনিত সমস্যাকে তীব্র করতে পারে। ভালোবাসা দিবসে অ্যালগরিদমে প্রেমঘন কনটেন্ট বেশি ভেসে ওঠায় এই প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়।

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গেও মানুষের মেজাজের সম্পর্ক রয়েছে। American Psychiatric Association সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার (SAD) নিয়ে বহু গবেষণা করেছে। যদিও শীতকালে বিষণ্নতা বেশি দেখা যায়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন বসন্তে সামাজিক কর্মকাণ্ড বাড়ার কারণে ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’ (ফোমো) বাড়তে পারে। চারপাশে সবাই যখন বাইরে ঘোরাফেরা বা উৎসবে ব্যস্ত, তখন সিঙ্গল কেউ নিজেকে আলাদা বা পিছিয়ে পড়া মনে করতে পারেন।

তবে সিঙ্গল থাকা মানেই একাকিত্ব—এমন ধারণা সঠিক নয়। ২০১৭ সালে Journal of Positive Psychology-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সিঙ্গল ব্যক্তিরা অনেক সময় ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, আত্মউন্নয়ন এবং বিস্তৃত সামাজিক সম্পর্ক থেকে ইতিবাচক উপকার পান। অর্থাৎ, সম্পর্ক না থাকলেও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব—যদি ব্যক্তি নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল চাপটি আসে সামাজিক প্রত্যাশা থেকে। নির্দিষ্ট বয়সের পর সম্পর্ক বা বিয়ে নিয়ে সামাজিক চাপ তৈরি হয়। ভালোবাসা দিবসের মতো দিনগুলো সেই চাপ সাময়িকভাবে বাড়িয়ে তোলে। বসন্তের রোমান্টিক আবহও অনেককে মনে করিয়ে দিতে পারে—‘আমি কি পিছিয়ে পড়ছি?’—এমন প্রশ্ন থেকেই মানসিক অস্বস্তির সূত্রপাত হয়।

মনোবিজ্ঞানীরা এ সময়টাকে ইতিবাচকভাবে দেখার পরামর্শ দেন। নিজের পছন্দের কাজ করা, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, এমনকি নিজেকে ছোটখাটো উপহার দেওয়া—এসব আত্মসম্মান বাড়াতে সহায়ক। ‘সেলফ-কমপ্যাশন’ বা আত্ম-সহানুভূতির চর্চা করাও গুরুত্বপূর্ণ—অর্থাৎ নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে তা স্বীকার করা, কিন্তু নিজেকে দোষারোপ না করা।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ভালোবাসা দিবস শুধু রোমান্টিক সম্পর্কের জন্য নয়; বন্ধুত্ব, পরিবার এবং নিজের প্রতি ভালোবাসাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বসন্ত যেমন নতুন সূচনার প্রতীক, তেমনি সিঙ্গল জীবনও হতে পারে আত্ম-আবিষ্কারের উজ্জ্বল সময়। সম্পর্কের স্ট্যাটাস নয়—মানসিক সুস্থতাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিষয়।

সূত্র: টাইমস ম্যাগাজিন, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর