পবিত্র রমজান মাসে ইফতারে খেজুর খাওয়ার প্রচলন রয়েছে সারা বিশ্বেই। বেশির ভাগ রোজাদার একটি বা দুটি খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙেন। এটি কেবল একটি ধর্মীয় রীতি নয়, এর পেছনে রয়েছে স্বাস্থ্যগত নানা উপকারও। পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, সারা দিন না খেয়ে থাকার পর খেজুর শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দীর্ঘ সময় রোজা রাখার কারণে শরীরে শক্তির ঘাটতি তৈরি হয়। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি খুব দ্রুত দেহে শক্তি জোগায় এবং ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে। তাই ইফতার শুরুতে খেজুর খেলে শরীর দ্রুত সতেজ হয়ে ওঠে।
খেজুর হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়ক। সারাদিন না খাওয়ার পর ইফতারে ভাজাপোড়া বা ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। খেজুর সহজপাচ্য হওয়ায় এটি অন্যান্য খাবার হজমে সহায়তা করে।
এছাড়া খেজুরে রয়েছে পর্যাপ্ত ফাইবার, যা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে ফাইবারের চাহিদা তৈরি হয়, খেজুর সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করতে পারে।
খেজুরে থাকা ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও বিভিন্ন ভিটামিন শরীর সচল রাখতে সহায়তা করে। এসব উপাদান ক্লান্তি কাটাতে এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি খেজুরে থাকা ক্ষারীয় লবণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ভারসাম্যে রাখতে সাহায্য করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকার থাকলেও অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকলে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খেজুর খাওয়াই উত্তম।
তথ্যসূত্র: BBC Good Food ও Healthline।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: