[email protected] শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
২০ পৌষ ১৪৩২

মঙ্গলবার থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আভাস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০৯

সংগৃহিত ছবি

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। ফলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহজুড়েই কনকনে শীতের আমেজ বজায় থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। এ ছাড়া জানুয়ারি মাসে দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি শীত মৌসুমে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ হবে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার (৮–১০ ডিগ্রি থেকে ৬–৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং এক থেকে দুইটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে মাঝারি থেকে তীব্র (৬–৮ ডিগ্রি থেকে ৪–৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।

এদিকে যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন বৃহস্পতিবারও একই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত চার দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে রেকর্ড করা হয়েছে।

টানা শৈত্যপ্রবাহ ও কনকনে শীতে শহর ও গ্রামীণ জীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ। ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে পথঘাট, যার প্রভাব পড়ছে বিমান, সড়ক ও নৌ যোগাযোগে।

ঘন কুয়াশার কারণে শুক্রবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত নয়টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়। এসব ফ্লাইট ঢাকার পরিবর্তে চট্টগ্রাম, কলকাতা ও ব্যাংককে অবতরণ করে। একই কারণে সড়কে একাধিক যানবাহন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, গত তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শনিবারও সাতটি জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দিন ৩১ ডিসেম্বর বরিশাল ও খুলনা বিভাগসহ কয়েকটি এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলেও পরে তা কিছুটা প্রশমিত হয়। তবে আগামী ৬ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে আবার শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে এবং দু-একটি এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহও হতে পারে। তিনি আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা কিছু এলাকায় ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, শনিবারও কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে চালকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, যার প্রভাবে দেশের ওপর শীতের দাপট আরও বাড়তে পারে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর