‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ ও কার্যধারা প্রত্যাহারের বিধান রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে ভবিষ্যতেও কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে নতুন কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ কিংবা আইনগত কার্যধারা দায়ের করা যাবে না।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে এ অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে, যা পরবর্তীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এ সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে সংঘটিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহালের জন্য আত্মরক্ষাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
এ প্রেক্ষাপটে গণঅভ্যুত্থানকারীদের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুরক্ষা প্রদান প্রয়োজন বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, যদি কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে মামলা বা অভিযোগ দায়ের থাকে, তবে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকার নিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়ন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন দাখিল করা হবে। আবেদন দাখিলের পর আদালত ওই মামলায় আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবে না এবং মামলাটি প্রত্যাহৃত হয়েছে বলে গণ্য হবে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।
তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে কোনো হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে। কমিশন অভিযোগটি তদন্ত করবে। তবে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এ যা কিছুই থাকুক না কেন, যেসব ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তি পুলিশ বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছিলেন, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর বর্তমান বা সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে কমিশনের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করবেন।
কমিশনের তদন্তে যদি প্রতীয়মান হয় যে, অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সংঘটিত অপরাধমূলক অপব্যবহার, তবে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দেবে। আদালত তা পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আর যদি তদন্তে দেখা যায়, অভিযোগে উল্লিখিত কাজটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সে ক্ষেত্রে কমিশন প্রয়োজন মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। এ ধরনের ঘটনায় আদালতে কোনো মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না।
অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: