[email protected] বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

বিডিআর নামে পুনর্বহাল হচ্ছে বিজিবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৪

ফাইল ছবি

নির্বাচনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করা হবে।

পাশাপাশি পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’, ‘সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস’ বা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলেও এখনো নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত অনুবিভাগের যুগ্মসচিব রেবেকা খান জানান, নাম পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বিজিবি বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক চাহিদা না আসায় ফাইল প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়নি। শিগগিরই এ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আজ রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তরে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ১৭ বছর পূর্ণ হয়েছে। দিনটি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করা হচ্ছে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’-এর প্রতিবেদনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার কথাও উঠে আসে।

তবে বর্তমান সরকার ওই প্রতিবেদনের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছে না বলে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি বলেছেন, পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় নতুন করে তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে।

অন্যদিকে, গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি এক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, এ বর্বরতা কোনো সেনাসদস্য নয়, সম্পূর্ণ তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত। বিচারিক প্রক্রিয়া যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিপথগামী সদস্যদের হামলায় তৎকালীন মহাপরিচালকসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং নারী-শিশুসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। ঘটনাটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। নতুন করে তদন্তের ঘোষণা সেই অধ্যায়কে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর