অব্যবহৃত মোবাইল ইন্টারনেট ডেটার মেয়াদ আনলিমিটেড করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার। বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ১১ কোটি ৩৫ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক রয়েছে। তাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরন ও চাহিদা ভিন্ন হওয়ায় সে অনুযায়ী অপারেটরদের বিভিন্ন প্যাকেজ ডিজাইন করতে হয়।
তিনি বলেন, মেয়াদ শেষে অব্যবহৃত ডেটা বাতিল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় এ সমস্যা সমাধানে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখতে অপারেটররা মেয়াদভিত্তিক ছোট ছোট প্যাকেজ চালু করেছে। এতে গ্রাহক নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী প্যাকেজ বেছে নিতে পারেন। মূল্য নির্ধারণে ডেটার পরিমাণের পাশাপাশি মেয়াদও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, মোবাইল ইন্টারনেটের মেয়াদ নির্ধারণ শুধু ব্যবসায়িক বিষয় নয়; এর সঙ্গে প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার বিষয়ও জড়িত। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মেয়াদভিত্তিক ডেটা প্যাকেজ চালু রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একই প্যাকেজ পুনরায় কিনলে বা অটো রিনিউ করলে অব্যবহৃত ডেটা ক্যারি ফরওয়ার্ড করার সুবিধা রয়েছে। এছাড়া সব অপারেটরের দীর্ঘমেয়াদি ১০ বছরের ডেটা প্যাকেজও রয়েছে, যা কার্যত আনলিমিটেড মেয়াদের সমতুল্য।
গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় ইন্টারনেট সেবার মান উন্নয়নে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। বিটিআরসি ইতোমধ্যে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে কোয়ালিটি অব সার্ভিস নির্দেশনা জারি করেছে।
এ ছাড়া মোবাইল ইন্টারনেটের মানোন্নয়নে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিয়মিত ড্রাইভ টেস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফাইভজি সেবা চালু হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটসহ দেশের ৪০০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সীমিত পরিসরে ফাইভজি সেবা চালু রয়েছে।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: