প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করবেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম বাজেট।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে সরকার গঠন করে বিএনপি। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান।
নির্বাচনের আগে বিএনপি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছিল। সরকার গঠনের পর প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরছে দলটি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর ২৪ মে পর্যন্ত মন্ত্রিসভার ১০টি বৈঠকে ৬০টি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য চালু করা হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’। পাশাপাশি প্রবাসী কার্ড, হেলথ কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষার ১৮টি কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে সরকার।
এবারের বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অনুদানসহ মোট বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ ও বাজেট ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রাও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা ও সংশয় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি বিনিয়োগ ও শিল্পোন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের কারণে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাকে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এবারের বাজেট এমনভাবে প্রণয়ন করা হচ্ছে যাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, শিল্পোদ্যোক্তা ও বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পান এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
এখন দেখার বিষয়, অতীতে বেগম খালেদা জিয়া ও সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে নতুন সরকার দেশের অর্থনীতিকে কতটা এগিয়ে নিতে পারে।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: