[email protected] শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

নজরুলকে ‘বাংলাদেশের মন’ আখ্যা প্রধানমন্ত্রীর, শুরু হলো ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২৬, ১৪:০১

ফাইল ছবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ‘বাংলাদেশের মন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ না করলেও নজরুলের হৃদয়জুড়ে ছিল বাংলাদেশ, আর বাংলাদেশও তাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্মারক ডাকটিকিট ও ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর লোগো উন্মোচন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবি শুধু অতীতের নন, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমান প্রাসঙ্গিক। তাই তার জীবন, সাহিত্য, দর্শন ও মানবিক চেতনা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি জানান, কিশোর বয়সে ১৯১৪ সালে নজরুল প্রথমবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে এসেছিলেন। সেই স্মৃতিকে ধারণ করে ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণা করার সম্ভাব্যতা সরকার যাচাই করছে।

নজরুলের সাহিত্যকর্মের মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য, প্রেম, মানবতা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মুক্তচিন্তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজী নজরুল ইসলাম অনন্য। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তার কলম ছিল শানিত অস্ত্র, যা আজও মানুষকে প্রেরণা জোগায়।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে জাতীয় কবির সম্পর্ক আরও গভীর করতেই বছরব্যাপী এই আয়োজন শুরু হয়েছে।

তবে উদ্বোধনী আয়োজনের ধরন নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি আরও জনসম্পৃক্ত হতে পারত। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের পরিবর্তে যদি নজরুল গবেষক, শিল্পী ও নজরুলপ্রেমীদের ভার্চুয়ালি যুক্ত করা হতো, তাহলে তা আয়োজনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে আরও বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো।

তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে যেমন নজরুল গবেষকদের যুক্ত করা যৌক্তিক নয়, তেমনি ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভার্চুয়াল সংযুক্তিও উদ্দেশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সময়ে মূল্যবোধসম্পন্ন সাহিত্য নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নজরুলের সাহিত্য ও কবিতা তরুণদের মানবিক, সাহসী ও মুক্তচিন্তার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুলসংগীতের আসর, প্রকাশনা, নাট্যোৎসব ও চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজনের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া জেলা, উপজেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে নজরুল বিশেষজ্ঞ ও নজরুলপ্রেমীদের সমন্বয়ে ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’ গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

নিজের মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই নজরুলকে বিভিন্ন বিশেষণে অভিহিত করেন। তবে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তার কাছে কাজী নজরুল ইসলাম হলেন ‘বাংলাদেশের মন’।

তিনি নজরুলের ‘গাহি সাম্যের গান’ কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বিভেদের অপচেষ্টা থাকলেও মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের মানুষের চিরায়ত ঐতিহ্য। সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাসহ নজরুল গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী ও শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক দর্শনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে জাতীয় কবির সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নতুনভাবে মূল্যায়িত হবে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর