[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে মানতে হবে নতুন শর্ত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৬

ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার তালিকা আরও বিস্তৃত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ঋণখেলাপির গ্যারান্টার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি ও ভূমি করের বিলখেলাপি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনাকারী পাঁচটি আইন—সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও জেলা পরিষদ আইন—পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব আইনে পরিবর্তনের সুপারিশ শিগগিরই স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।

ইসি জানায়, বর্তমানে সব স্থানীয় সরকার আইনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা সমানভাবে উল্লেখ নেই। তাই সব আইনে বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা সংযোজনেরও সুপারিশ করা হবে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধু ব্যক্তিগত ঋণখেলাপি নয়, কোনো ঋণের গ্যারান্টার হিসেবে খেলাপি হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ভূমি করসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা বা প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল থাকলেও প্রার্থিতা বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কর্ণধারের প্রতিষ্ঠানের নামে বকেয়া থাকলেও সেটিও অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদেরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের সুপারিশ দ্রুত স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণ বিধিমালাও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। ভবিষ্যতে তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরও কমানো যায় কি না, তা কমিশন পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি কিংবা প্রাথমিক স্তর থেকে তথ্য সংগ্রহের সম্ভাব্যতা যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর