[email protected] শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন, সরকার থাকবে আপনার পাশে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৩:২০

সংগৃহিত ছবি

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশি উদ্যোক্তা হোন কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী-বাংলাদেশে কেউ মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে তাদের পাশে থাকবে। এটি শুধু আশ্বাস নয়, সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজন করে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি করপোরেট প্রধান, বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন। তাদের বিনিয়োগের ফলে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ব্যবসার সাফল্য শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না; প্রবৃদ্ধি-সহায়ক সরকারি নীতিমালাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও রয়েছে দ্রুত বিকাশমান বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিরঙ্কুশ জনসমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এসব শক্তিই বাংলাদেশকে টেকসই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছে।

তিনি জানান, সরকার নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা জোরদার, আধুনিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠন, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থা সহজীকরণ, মুনাফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করা, শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কমানো, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন, স্টার্টআপে উৎসাহ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।

তিনি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল নয়; দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারত্ব গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যাত্রায় অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

আলোকিত গৌড়/আ

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর