ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই। তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে করা আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
বুধবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আপিল বিভাগের এ সিদ্ধান্তের ফলে সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনে আর কোনো বাধা রইল না।
সরোয়ার আলমগীরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম জানান, হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হওয়ায় জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের করা আবেদন কার্যকারিতা হারিয়েছে। তাই আপিল বিভাগ আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, নুরুল আমিনের আইনজীবী মুহাম্মদ আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন যে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ায় এখন তারা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) আবেদন করতে পারবেন। খুব শিগগিরই এ আবেদন দাখিল করা হবে।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন আপিল বিভাগে আবেদন করে সরোয়ার আলমগীরকে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়েছিলেন। ওই আবেদনের ওপর দুই দিন শুনানি শেষে বুধবার আদেশ দেন আদালত।
মামলার পটভূমি
ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন নুরুল আমিন। এর পর গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ারের প্রার্থিতা বাতিল করে।
পরে হাইকোর্টে রিট করে প্রার্থিতা ফিরে পান সরোয়ার এবং নির্বাচনে অংশ নেন। নুরুল আমিনের আবেদনের পর গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ তার নির্বাচনি ফলাফল প্রকাশে স্থগিতাদেশ দেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলেও সে সময় ফলাফল প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন।
পরবর্তীতে ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে দ্রুত রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। এরপর ৯ জুলাই হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।
হাইকোর্টের ওই রায়ের পর নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে এবং একই দিন তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। পরে ১২ জুলাই হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন নুরুল আমিন। সেই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বুধবার আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
আলোকিত গৌড়/আ
মন্তব্য করুন: